প্রতিপক্ষের পিচে অনুশীলন নয়, আইপিএলের আগে কঠোর নির্দেশ বোর্ডের

২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আইপিএল । ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতার প্রথম দফার সূচি প্রকাশ করেছে বিসিসিআই। আপাতত ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ম্যাচের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সব দশটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে কঠোর কিছু নির্দেশও দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড, যাতে প্রতিযোগিতায় কোনও দল বাড়তি সুবিধা না পায়। এক ক্রিকেট–সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, অনুশীলন সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে বোর্ড। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও দল তাদের নেট সেশনের সময় সেই পিচে অনুশীলন করতে পারবে না যেখানে প্রতিপক্ষ দল ইতিমধ্যেই অনুশীলন করেছে। প্রতিটি দলকে আলাদা পিচে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে। বোর্ডের মতে, এতে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা বজায় থাকবে এবং কোনও দল প্রতিপক্ষের অনুশীলন দেখে বাড়তি সুবিধা নিতে পারবে না। বোর্ডের এক সূত্র জানিয়েছে, অনুশীলনের জন্য প্রতিটি দলকে নতুন পিচ ব্যবহার করতে হবে। কোনও দল আগে অনুশীলন শেষ করলেও অন্য দল সেই একই পিচে অনুশীলন করতে পারবে না। এমনকি থ্রো–ডাউন বা আলাদা করে ব্যাটিং অনুশীলনের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ প্রতিটি দলের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা অনুশীলন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়াও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের প্রথম হোম ম্যাচের চার দিন আগে মূল ম্যাচের উইকেটের পাশের অংশে অনুশীলন করতে পারবে না। বোর্ডের মতে, এতে ম্যাচের উইকেটের মান অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং পিচের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না। প্রতিটি দলের জন্য দুটি করে নেট পিচ বরাদ্দ থাকবে। তবে হোম দল অনুশীলনে আগে নামবে না পরে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। এদিকে আইপিএল শেষ হওয়ার পর থেকেই ভবিষ্যতের বড় লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের নজর এখন ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের দিকে। সেই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। হাতে এখনও বেশ কয়েক বছর সময় থাকলেও প্রস্তুতি শুরু করতে দেরি করতে চাইছে না বোর্ড। গত কয়েক বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। পরপর দুইবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জিতেছে ভারত। তবে একদিনের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই বড় শিরোপা অধরা। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনওবার এই ফরম্যাটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ভারত। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া হয়। এই কারণেই ২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় বোর্ড নাকি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। উদ্দেশ্য একটাই—ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে একদিনের ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো। বোর্ডের বিশ্বাস, বেশি সংখ্যক একদিনের ম্যাচ খেললে এই ফরম্যাটে দলের প্রস্তুতি আরও মজবুত হবে এবং আগামী বিশ্বকাপে ভারতের জয়ের সম্ভাবনাও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 1 =