কলকাতা : কলকাতার নজিরাবাদ এলাকায় গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে ‘ওয়াও মোমো’ সংস্থার দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ওই সংস্থার গুদাম ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী এবং ডেপুটি ম্যানেজার মনোরঞ্জন শীটকে হেফাজতে নিয়েছে। এর আগে পুলিশ মোমো গুদামের পাশে থাকা ডেকরেটরস সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছিল, যাঁর চত্বর থেকেই প্রথম আগুন লেগেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গুদামটি ওয়াও মোমো-র গুদামের লাগোয়া ছিল।
গত ২৬ জানুয়ারি ভোরে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাসের কাছে নজিরাবাদ এলাকার দুটি গুদামে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আগুন প্রথমে গঙ্গাধর দাসের গুদামে লাগে এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে ওয়াও মোমো-র গুদামে পৌঁছে যায়। আগুনের গ্রাসে সেখানে মজুত সমস্ত সামগ্রী ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং ভেতরে আটকে পড়া অনেক কর্মী বের হতে পারেননি।
ঘটনা প্রসঙ্গে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, গুদামের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বাইরে বের হতে বাধা দেওয়া হয়েছিল| তাঁরা ভেতরেই তালাবন্ধ অবস্থায় আটকে পড়েছিলেন।
গত বুধবার এক বিবৃতিতে ওয়াও মোমো দাবি করেছিল যে, এই অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের দুই কর্মী এবং নিরাপত্তা সংস্থার একজন গার্ড নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি যে মোট কতজনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে এবং নিখোঁজ ডায়েরি করা পরিবারগুলোর নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে।
জানা গেছে, গুদামে কর্মরত অনেক কর্মী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পিংলা, ময়না, নন্দকুমার, সুতাহাটা এবং তমলুক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। অন্তত ২৫ জন এখনও নিখোঁজ বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী এদিন আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় একটি প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনাস্থলে এখনও দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপজ্জনক লোহার কাঠামো ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা।

