দুর্গাপুর : দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেল থেকে এক ডাক্তারি ছাত্রের রহস্যজনকভাবে মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পশহরজুড়ে। শনিবার গভীর রাতে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের বয়েজ হোস্টেলের বাথরুম থেকে ওই ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রবিবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম লাবণ্য প্রতাপ (২২)। তিনি বিহারের পাটনার বাসিন্দা এবং কলেজের এমবিবিএস এর পড়ুয়া ছিলেন। হাসপাতাল ভবনের বয়েজ হোস্টেলের পাঁচতলায় ৫১১ নম্বর ঘরে থাকতেন তিনি। শনিবার রাতে হোস্টেলের বাথরুমে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুর থানায় খবর দেয়।
মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও, অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, লাবণ্য প্রতাপ একাধিকবার একটি সেমিস্টারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তদন্তকারীদের অনুমান, পরীক্ষার ফলাফলজনিত মানসিক চাপ থেকেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। রবিবার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং বিষয়টি জানানো হয় ছাত্রের পরিবারকে। মৃতের বাবা অনিল কুমার রবিবার সকালে দুর্গাপুরে পৌঁছান। তিনি বলেন, “ছেলের থিওরিতে নম্বর ভালো ছিল, প্র্যাক্টিকালে কম নম্বর পাওয়া নিয়ে ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ আরও সংবেদনশীল হলে হয়তো বিষয়টি অন্যভাবে সামলানো যেত।”
এদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভাগীয় ডিন মৃত ছাত্রের বাবাকে ফোনে বিষয়টি জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আমরা এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা। পুলিশ তদন্ত করছে এবং আমরা সমস্ত রকম সহযোগিতা করছি।”
উল্লেখ্য, এই মেডিক্যাল কলেজকে ঘিরে গত বছর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে এখনও আদালতে মামলা বিচারাধীন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ছাত্রের রহস্যমৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।”

