গত তিন ম্যাচে মোহনবাগান একের পর এক পয়েন্ট নষ্ট করেছে। ঘরের মাঠে পাঞ্জাব এফসিকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার সেরা সুযোগ ছিল সের্জিও লোবেরার মোহনবাগানের কাছে। তবে শুরুর দিকে পাঞ্জাবের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, আজও হয়তো জলে যেতে পারে মোহনবাগানের পয়েন্ট জয়ের আশা। পাঞ্জাব এফসির আক্রমণাত্মক ফুটবলে দিশেহারা বাগান ডিফেন্স। তবে শেষমেশ পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ৩-২ গোলে দুরন্ত কামব্যাক সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের।
এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রথমে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে ম্যাচ পিছতে বলা হয়েছিল। পরে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মাত্র সতেরো হাজার দর্শক প্রবেশের অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। তাই রবিবারের ম্যাচের মাত্র ১৭ হাজার টিকিট ছাড়া হয়েছিল। সেই দর্শকরাই দুর্দান্ত এক ম্যাচ উপভোগ করে গেল। রবিবার প্রয়াত হয়েছেন সুর সমাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। যুবভারতীর জায়ান্ট স্ক্রিনে শ্রদ্ধা জানানো হয় এই কিংবদন্তিকে।
ম্যাচের ১২ মিনিটেই এগিয়ে যায় পাঞ্জাব। বাঁদিক আক্রমণে তুলে বাগানের ডিফেন্সের ফাঁককে কাজে লাগিয়ে গোল করেন ড্যানি রামিরেজ। এরপর ১৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ডিফেন্ডার আলবার্তো রদ্রিগেজ। ২৯ মিনিটে ম্যাকলারেনের গোলে সমতায় ফেরে মোহনবাগান। বাঁদিক থেকে রবসনের পাস পেয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুরন্ত শটে গোল করেন অজি বিশ্বকাপার। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময় দিমি পেত্রাতোসের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পাঞ্জাবকে এগিয়ে দেন ইফইং। ৬৯ মিনিটে রবসনকে তুলে সাহাল আবদুল সামাদকে নামান লোবেরা। ৭৪ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নামা সামাদই ডান পায়ের শটে বিশ্বমানের গোল করে সমতায় ফেরান দলকে। ৭৯ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত পাঞ্জাব, তবে বল বাঁচিয়ে দিলেন বিশাল কাইথ। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্ত সময়ে ফ্রিকিক থেকে জয়সূচক গোল করেন জেসন কামিংস। স্বস্তির তিন পয়েন্ট বাগানের ঘরে। ম্যাচ শেষে রেফারি নিয়ে ক্ষুব্ধ পাঞ্জাব শিবির।

