ঋতিকা চক্রবর্তী: ৮০-৯০ দশকের মোহনবাগান বনাম মহামেডান স্পোর্টিং ডার্বি মানে ছিল সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই। শনিবারের যুবভারতীতে অবশ্য এই দৃশ্য দেখা যাবে না তা প্রায় নিশ্চিত ছিল। সাদা-কালো ব্রিগেডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে এবারের আইএসএলে জয়ের হ্যাটট্রিক করল লোবেরার মোহনবাগান। অবশ্য ডার্বির মতোই উত্তেজনা নিয়ে ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল। অতি বড় মহামেডান সমর্থকরাও আশা করেননি ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে যেতে পারে মহামেডান। সকলকে চমকে দিয়ে লালথানকিমার গোলে এগিয়ে যায় মহামেডান স্পোর্টিং। তারপর অবশ্য ম্যাচ থেকে হারিয়ে গেল মেহরাজুদ্দিনের ছেলেরা।
ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে যতই মহামেডানকে সম্মান করুক কোচ লোবেরা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ মহামেডানের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে চার বদল করে দল নামালেন বাগান কোচ। অন্যদিকে সর্বভারতীয় পর্যায়ে মহামেডান শেষবার পয়েন্ট পেয়েছিল ১০ মার্চ আইএসএলে পাঞ্জাব এফসির সঙ্গে ড্র করে। ১১ জানুয়ারি ২০২৫ কাশিমভের গোলে মহামেডান শেষ জয় পেয়েছিল। প্রথম মিনিটেই সুযোগ পেয়ে যায় মোহনবাগান। ডানদিক থেকে বল পেয়ে মহামেডান স্পোর্টিং ডিফেন্ডার সাজ্জাদ হোসেন পেয়ারেকে কাটিয়ে জেসন কামিংস শট নেন। বল গোলপোস্টের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। অমরজিৎ সিং কিয়ামের গায়ে বল লাগায় কর্ণার পায় মোহনবাগান। ৪ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার ফ্রি কিক থেকে আলবার্তো সঠিক ভাবে হেড করতে ব্যর্থ, বল চলে যায় মহামেডান স্পোর্টিং গোলকিপার শুভজিৎ ভট্টাচার্যর হাতে। ১২ মিনিটে গ্যালারিকে অবাক করে এগিয়ে যায় মহামেডান। লালানঘাই সাকার কর্ণার থেকে লালথানকিমার হেডে গোল করেন। এরপর জেগে ওঠে মোহনবাগানের আক্রমণ। ১৮ মিনিটে রবসনের শট গোলপোস্টে লাগে। ২২ মিনিটে কামিংসের ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দিলেন মোহনবাগানের ব্রাজিলিয়ান তারকা রবসন রবিনহো। ২৭ মিনিটে মনবীরের শট গৌরব বোরার পায়ে লাগে, সেখান থেকে রবসনের সুদর্শন শট সাদা-কালো ব্রিগেডের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। ২-১ এগিয়ে যায় মোহনবাগান। ৩৫ মিনিটে অময়ের ক্রস থেকে কামিংসের শট আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন মহামেডান গোলকিপার শুভজিৎ। সেখান থেকে বল পেয়ে গোলে ঢুকিয়ে দেন ম্যাকলারেন। ৩৯ মিনিটে রবসনের চোটের কারণে পরিবর্ত হিসেবে নামলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। পর মূহুর্তেই জেমির শট গোলপোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৪২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দিমিত্রির বাড়ানো বল দুর্দান্ত ভাবে রিসিভ করেন মনবীর। সেখান থেকে ম্যাকলারেন বল পেয়েও সঠিক ভাবে শট নিতে ব্যর্থ। মনবীর যা পারফর্ম করলেন, তাতে লোবেরার ভাবতে হবে পরের ম্যাচে লিস্টন কোলাসোকে প্রথম খেলানো নিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে মহামেডানের রেমসাঙ্গার জায়গায় নামেন ফারদিন আলি মোল্লা, সাকার জায়গায় নামেন মাখন ছোটে। দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে মোহনবাগান। ৫৮ মিনিটে কামিংসের জায়গায় টম অলড্রেড এবং দীপক টাংরিকে তুলে লিস্টন কোলাসো নামেন। ৬২ মিনিটে অভিষেক টেকচাম সিং এর ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডারে গোল করেন মনবীর। ৭০ মিনিটে ২৫ গজ দূরত্ব থেকে দিমিত্রির অসাধারণ গোল। ৫-১ থেকে ডার্বি জয় করে মাঠ ছাড়ল মোহনবাগান।

