কলকাতা : অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানির নোটিশ পাঠালেন অনুষ্ঠান উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী। শাস্ত্রীর অভিযোগ, হেনস্থার মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে, যার ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন।
তনয় শাস্ত্রী বৃহস্পতিবার জানান, তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে মিমি চক্রবর্তীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হয় মিমিকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করতে হবে, অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে। এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মিমি চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তনয় শাস্ত্রীর দাবি, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মিমি চক্রবর্তীকে ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিনেত্রী নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে পৌঁছাননি, যার ফলে তাঁকে মঞ্চ ছাড়তে বলা হয়েছিল। শাস্ত্রীর আরও অভিযোগ, বিনা কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার জেরে তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয়েছে এবং তাঁর সামাজিক সম্মান নষ্ট হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মাসে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁয় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মিমি চক্রবর্তীর পারফর্ম করার কথা ছিল। তিনি ছিলেন সেই রাতের শেষ শিল্পী। মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগ ছিল যে, মাঝরাতের পর অনুষ্ঠানের অনুমতি না থাকায় তনয় শাস্ত্রী তাঁকে পারফরম্যান্সের মাঝেই মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেন এবং তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন। এরপরই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
পাল্টা জবাবে তনয় শাস্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, অভিনেত্রী সময়মতো পৌঁছাননি এবং তাঁকে অত্যন্ত বিনীতভাবে মঞ্চ ছাড়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি কোনও ধরণের হেনস্থার কথা অস্বীকার করেছিলেন। তবে তদন্ত চলাকালীন পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শাস্ত্রী এবং তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় তনয় শাস্ত্রীকে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় জেল হেফাজতে থাকতে হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জামিন পান। এবার মানহানির নোটিশ পাঠানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আইনি লড়াই শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

