অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক, বিজেপিতে কি যোগ দিচ্ছেন লিয়েন্ডার ?

ভারতীয় লন টেনিস জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নাম লিয়েন্ডার পেজকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। সূত্রের খবর, তিনি খুব শিগগিরই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। ইতিমধ্যেই তিনি দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এই বৈঠকের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

দেশজুড়ে একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে ভোটের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ঠিক এই সময়েই লিয়েন্ডারের সম্ভাব্য রাজনৈতিক যোগদান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ক্রীড়াক্ষেত্রে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে সাফল্য এনে দেওয়া এই তারকা কি এবার ভোটের ময়দানে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করবেন, সেই প্রশ্নই ঘুরছে নানা মহলে। গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে জল্পনা চলছিল। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠকের খবর সামনে এসেছে। এর আগেও অবশ্য রাজনীতির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে বহুবার। দুই হাজার উনিশ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পরে দুই হাজার একুশ সালে মমতা ব্যানার্জির হাত ধরে গোয়ার মাটিতে অন্য একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। তখনও শোনা গিয়েছিল, তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে লড়েননি।

এবারের পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা আলাদা। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের মুখে তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও সূত্রের দাবি, তাঁকে সরাসরি নির্বাচনে প্রার্থী করা নাও হতে পারে। বরং ক্রীড়া প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কোনও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তাঁকে।  বিশেষ করে দুই হাজার ছত্রিশ সালের অলিম্পিক আয়োজনকে সামনে রেখে ভারত যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেখানে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে। আহমেদাবাদকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নানা পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘মিশন অলিম্পিক দুই হাজার ছত্রিশ’ নামে একটি বৃহৎ পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের পদকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

এই প্রেক্ষাপটে লিয়েন্ডারের মতো অভিজ্ঞ ও সফল ক্রীড়াবিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য এবং ক্রীড়া প্রশাসন সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান;সব মিলিয়ে তাঁকে বড় কোনও দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলেই মত অনেকের। সব মিলিয়ে, ক্রীড়া থেকে রাজনীতিতে তাঁর সম্ভাব্য যাত্রা নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটবেন, তা স্পষ্ট হবে খুব তাড়াতাড়ি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × four =