লস্কর জঙ্গি শব্বীর আহমেদ লোন গ্রেফতার, বড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল দিল্লি পুলিশ

নয়াদিল্লি : নয়াদিল্লিতে বড়সড় জঙ্গি হামলার সম্ভাবনা রুখে দিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত কুখ্যাত জঙ্গি শাব্বির আহমেদ লোনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। রবিবার গভীর রাতে গাজীপুর এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়। গোটা জঙ্গি মডিউলের ‘হ্যান্ডলার’ হিসেবে কাজ করছিল সে বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।

স্পেশাল সেলের ডেপুটি কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠীর তত্ত্বাবধানে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সামনে আসা ‘মেট্রো পোস্টার’ মামলায় ধৃত জঙ্গি নেটওয়ার্কের মূল পরিচালনাকারী ছিল শাব্বির লোনই। তার নির্দেশেই ভারতে স্লিপার সেল গড়ে তোলা এবং নাশকতার পরিকল্পনা এগোচ্ছিল।

তল্লাশিতে তার কাছ থেকে প্রায় ২,৩০০ বাংলাদেশি টাকা, ৩,০০০–৫,০০০ পাকিস্তানি মুদ্রা এবং একটি নেপালি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এই সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে বসে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল সে। কলকাতার হাতিয়ারা এলাকায় একটি ‘সেফ হাউস’ তৈরি করেছিল, যেখানে জঙ্গি সদস্যদের আশ্রয় দেওয়া এবং পরিকল্পনা করা হত।

পুলিশের দাবি, জনবহুল এলাকা ছিল শাব্বিরের প্রধান টার্গেট। নিয়মিত ভিড়যুক্ত জায়গায় গিয়ে সে রেকি করত এবং কোথায় হামলা চালালে সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি সম্ভব, তা খতিয়ে দেখত। সোমবার তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ছক কষা হচ্ছিল।

এছাড়া, প্রযুক্তির সাহায্যে অত্যন্ত সংগঠিতভাবে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হত। এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত শাব্বির, যাতে নিরাপত্তা সংস্থার নজর এড়ানো যায়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এই গোটা নেটওয়ার্ককে অর্থ ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছিল।

জঙ্গি নিয়োগ ও মৌলবাদে প্ররোচনার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা ছিল শাব্বিরের। অভিযোগ, বাংলাদেশে বসবাসকারী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের টার্গেট করে তাদের ব্রেনওয়াশ করা হত এবং পরে ভুয়ো পরিচয়পত্র—যেমন আধার—তৈরি করে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হত।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, লস্করের শীর্ষ জঙ্গি হাফিজ সাঈদ এবং তার সহযোগী জাকি-উর-রহমান লাখভীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল শাব্বির লোনের। পাকিস্তানের মুজফ্ফরাবাদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে সে ‘দৌরা-এ-আম’ ও ‘দৌরা-এ-খাস’ ট্রেনিংও নিয়েছিল।

উল্লেখ্য, শাব্বির লোন নতুন নয়। ২০০৭ সালে দিল্লি পুলিশ তাকে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র—একেএ-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেডসহ—সহ গ্রেফতার করেছিল। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিহাড় জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে সে বাংলাদেশে পালিয়ে যায় এবং সেখান থেকেই আবার জঙ্গি কার্যকলাপ শুরু করে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল একটি বড় জঙ্গি মডিউল ভেঙে দেয়, যেখানে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে তখনই স্পষ্ট হয়, এই নেটওয়ার্কের মূলচক্রী শাব্বির লোন। এরপর থেকেই তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

বর্তমানে ধৃত জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশের মতে, এই গ্রেফতারের ফলে রাজধানীতে সম্ভাব্য বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক বানচাল করা সম্ভব হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × one =