রোহিত শর্মার দাপটে প্রথম ম্যাচেই হার কেকেআরের, উঠল একাধিক প্রশ্ন ! 

ওয়াংখেড়ের আলো ঝলমলে মঞ্চে আবারও নিজের সাম্রাজ্যের প্রমাণ দিলেন রোহিত শর্মা। ‘মুম্বইচা রাজা’ নামে পরিচিত এই তারকা ব্যাটসম্যান তাঁর দুরন্ত ৭৮ রানের ইনিংসে সহজ জয় এনে দিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স-কে। অন্যদিকে, নতুন মরশুমের শুরুতেই ধাক্কা খেল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
টসে জিতে মুম্বইয়ের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান কেকেআরকে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে এবং ফিন অ্যালেন। মাত্র চার ওভারে ৫৭ রান তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন তারা। বিশেষ করে হার্দিকের এক ওভারে রাহানের ২৬ রান ম্যাচের গতি অনেকটাই বদলে দেয়।
তবে এই ঝড় থামান শার্দূল ঠাকুর। ধীরগতির বল কাজে লাগিয়ে তিনি প্রথমে অ্যালেনকে ফেরান। অ্যালেন ৩৭ রান করে ফিরে গেলে কিছুটা ধাক্কা খায় কেকেআর। এরপরও রাহানে নিজের ছন্দ বজায় রেখে ৪০ বলে ৬৭ রান করেন। কিন্তু তিনিও শেষ পর্যন্ত শার্দূলের শিকার হন। মাঝের ওভারে জসপ্রীত বুমরাহ ও ট্রেন্ট বোল্ট রান তোলার গতি অনেকটাই কমিয়ে দেন।
তবুও কেকেআর দু’শো রানের গণ্ডি পার করে মূলত অঙ্গকৃষ রঘুবংশী এবং রিঙ্কু সিং-এর গুরুত্বপূর্ণ অবদানে। রিঙ্কু ২১ বলে ৩৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত কেকেআরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২০ রান, যা ওয়াংখেড়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে লড়াই করার মতো স্কোর হলেও খুব নিরাপদ ছিল না।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে দেখা যায় রোহিতকে। প্রায় এক বছর পর এই সংস্করণে ফিরে এসে তিনি বুঝিয়ে দেন কেন তিনি এখনও সেরাদের একজন। তাঁর ব্যাট থেকে একের পর এক চমৎকার পুল শট ও বাউন্ডারি বেরিয়ে আসে। ৬টি ছক্কা ও ৬টি চারের সাহায্যে তিনি ৭৮ রান করেন। যদিও শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে তিনি আউট হন অনুকূল রায়-এর দুর্দান্ত ক্যাচে, ততক্ষণে ম্যাচ অনেকটাই মুম্বইয়ের মুঠোয় চলে গিয়েছে।
রোহিতকে যোগ্য সঙ্গ দেন রায়ান রিকেলটন। তিনি ৪৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। এই জুটির দাপটে ১২ ওভারের মধ্যেই ১৫০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় মুম্বই। সেখান থেকেই ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারিত হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত সহজেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে মুম্বই। ছয় উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা। কেকেআরের বোলিং বিভাগের দুর্বলতা আবারও সামনে আসে। ব্লেসিং মুজারাবানি-সহ বোলাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা কেকেআরের জন্য অধিনায়ক রাহানের চোট। তিনি মাঠ ছাড়ার পর দলের নেতৃত্ব সামলান রিঙ্কু। তবে রাহানের চোট কতটা গুরুতর, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর অনুপস্থিতি দলকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে শক্তি দেখালেও বোলিংয়ে দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে গেল কেকেআরের। অন্যদিকে, রোহিতের নেতৃত্বে মুম্বই বুঝিয়ে দিল, নিজেদের ঘরের মাঠে তারা এখনও কতটা ভয়ংকর। নতুন মরশুমের শুরুতেই এই জয় মুম্বইয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, আর কেকেআরের সামনে তুলে ধরবে একাধিক প্রশ্নচিহ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − eleven =