সুপার এইটে ভারতের বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় ধাক্কা ! আমেদাবাদে ফিরল দুঃস্বপ্নের সেই রাত ?

আহমেদাবাদ—এই নামটির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ-আতঙ্ক। একদিন এই মাঠেই ভেঙেছিল একদিনের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। আর এবার কি এখানেই থেমে যাবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আশা? সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে সেই ভয় আরও ঘনীভূত হল। শুধু হার নয়, এই পরাজয় তারকাখচিত ভারতীয় দলের জন্য রীতিমতো লজ্জাজনক। ১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে গেল ভারতের ইনিংস।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক আইডেন মার্করাম। আহমেদাবাদের মতো ব্যাটিং–সহায়ক পিচে, যেখানে শিশির বড় ভূমিকা নেয়, এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু মার্করামের কাছে দু’টি বিষয় স্পষ্ট ছিল—এক, বড় ম্যাচে রানের চাপ সামলে তাড়া করা সহজ নয়; দুই, চাপ পড়লেই ভারতের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। ম্যাচের চিত্রই তার প্রমাণ।
যদিও শুরুটা ছিল ভারতের পক্ষেই। জশপ্রীত বুমরাহ ও অর্শদীপ সিং আগুন ঝরানো বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সারি ভেঙে দেন। বুমরাহ ফেরান কুইন্টন ডি’কক ও রায়ান রিকেলটনকে, অর্শদীপ তুলে নেন মার্করামের উইকেট। চার ওভারে ২০ রানে ৩ উইকেট—ম্যাচ তখন ভারতের নিয়ন্ত্রণে।
কিন্তু এখানেই গড়ে ওঠে পার্থক্য। দ্রুত উইকেট পড়লেও দক্ষিণ আফ্রিকা ধৈর্য হারায়নি। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই আক্রমণে যান ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। মিলারের ৩৫ বলে ৬৩ ও ব্রেভিসের ৪৫ রানে ভর করে ইনিংস দাঁড়ায় শক্ত ভিতের উপর। শেষ দিকে হার্দিক পাণ্ডিয়ার এক ওভারের ২০ রান দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৌঁছে দেয় ১৮৭-এ।
এই রান আহমেদাবাদের পিচে তাড়া করা অসম্ভব ছিল না। কিন্তু সমস্যা ছিল ভারতের মানসিকতায়। বিশ্বকাপে প্রথমবার রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যান ব্যাটাররা। ওপেনিংয়ে ঈশান কিষান শূন্য ও অভিষেক শর্মার অস্বস্তিকর ইনিংস চাপ বাড়ায়। মাঝের সারিতে তিলক বর্মা ও ওয়াশিংটন সুন্দর অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়ে আউট হন। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ে মার্কো জানসেন ২২ রানে ৪ উইকেট ও কেশব মহারাজ ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিংকে শিকলবন্দি করে রাখেন। লুঙ্গি এনগিডি উইকেট না পেলেও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে রান আটকে দেন। শেষ পর্যন্ত ভারতের ইনিংস থামে ১১১ রানে।
পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সমীকরণ জটিল হলেও এখনও সব শেষ নয়। তবে সবার আগে এই হারের আতঙ্ক ঝেড়ে ফেলতে হবে। দলের মানসিক জড়তা ভাঙাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—যেটা যত দ্রুত কোচ গৌতম গম্ভীর করতে পারবেন, ততই ভারতের সেমিফাইনালের স্বপ্ন বেঁচে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + five =