ইডেনে ‘সুপার সঞ্জু’র ব্যাটে সেমিফাইনালের টিকিট ভারতের 

ঘুটঘুটে অন্ধকার পেরিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপে স্বস্তির আলোর দেখা পেল টিম ইন্ডিয়া। সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা, চাপ আর আশঙ্কার কালো মেঘ জমেছিল, তা সরে গিয়ে ইডেন গার্ডেন্সের আকাশে আবার রোদ উঠল। সেই ইডেন—যেখানে ঠিক এক দশক আগে বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল ভারতের। বিরাট কোহলি ও মহেন্দ্র সিং ধোনিদের নেতৃত্বে যে দল সেদিন থমকে গিয়েছিল, ঠিক দশ বছর পর সেই মাঠেই যেন শাপমুক্তি ঘটল ভারতীয় ক্রিকেটের।
এই ম্যাচের আগে হুঙ্কার কম ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন সামি ‘দৈত্যের’ বিরুদ্ধে ‘ডেভিড’ হয়ে লড়াইয়ের কথা বলেছিলেন। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা অন্য গল্প লিখল। কারণ এই রাতে জন্ম নিল ‘সুপার সঞ্জু’। এতদিন যিনি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, সেই সঞ্জু স্যামসনই ডু-অর-ডাই ম্যাচে ভারতকে টেনে তুললেন সেমিফাইনালে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার এইটের হারে পাহাড়সম চাপ তৈরি হয়েছিল ভারতের ওপর। জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে খানিকটা স্বস্তি এলেও, আসল অগ্নিপরীক্ষা ছিল ইডেনেই। কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালের মতো ম্যাচ—জিতলেই সেমিফাইনাল, হারলেই বিদায়। টসে ভাগ্য সহায় হল অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবর। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠান।
ইডেনের পিচে রান যে উঠবে, তার ইঙ্গিত শুরুতেই মিলেছিল। একদিকে জশপ্রীত বুমরাহ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে চাপ রাখলেও, অন্যদিকে ভারতের ফিল্ডিং বারবার হতাশ করল। রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া, সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়া—সব মিলিয়ে ক্যারিবিয়ানরা ম্যাচে ফিরে আসে। শাই হোপ ও রস্টন চেজ শুরুটা ভালো করলেও শেষদিকে রভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার বড় রানের ভিত গড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ১৯৫ রানে—চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয়।
কিন্তু বিশ্বকাপ মানেই চাপ। আর সেই চাপটাই যেন সঞ্জু স্যামসনের অভিধানে ছিল না। প্রথম দিকেই অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান ও সূর্যকুমার যাদব দ্রুত ফিরলেও, প্রয়োজনীয় রান রেট নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। মাঝের ওভারে তিলক বর্মার ঝরঝরে ইনিংস ভারতের ইনিংসে প্রাণ ফেরায়। হার্দিক পাণ্ডিয়া চেষ্টা করলেও ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি।
সব দৃষ্টি তখন এক জনের দিকে—সঞ্জু। বড় শট মারার তাড়াহুড়ো নেই, অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিও নয়। নিখুঁত টাইমিং আর ক্লাসে ধীরে ধীরে ম্যাচ নিজের হাতে নিয়ে নিলেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং দেখে অনেকের মনেই ফিরে আসতে পারে কোহলির ‘চেজমাস্টার’ অবতারের স্মৃতি। শেষ পর্যন্ত ৯৭ রানে অপরাজিত থেকে শুধু ম্যাচই জেতালেন না, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয়দের সর্বোচ্চ রানের তালিকায় কোহলিকেও ছাপিয়ে গেলেন।
সেঞ্চুরি ছোঁয়া না হলেও, এই ৯৭ রানের মূল্য তার চেয়েও বেশি। কারণ এই ইনিংস ভারতকে পৌঁছে দিল সেমিফাইনালে। বৃহস্পতিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামতে নামবে টিম ইন্ডিয়া—নতুন স্বপ্ন, নতুন লড়াই নিয়ে। ইডেনের রাত সাক্ষী রইল, চাপের মুখে কীভাবে নায়ক জন্ম নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 2 =