কুয়ালালামপুর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারত আজ কেবল একটি বড় বাজার নয়, বরং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশ্বের এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে। ইউকে, ইউএই, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওমান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকার মতো দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক চুক্তি এই ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রমাণ। তিনি বলেন, “বিশ্বাসই এখন ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী কারেন্সি (মুদ্রা)।”
শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেন যে, ওসিআই কার্ডের যোগ্যতা ষষ্ঠ প্রজন্ম পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া তিনি তিরুভাল্লুভার স্কলারশিপ চালু এবং মালয়েশিয়ায় শীঘ্রই একটি নতুন ভারতীয় কনস্যুলেট খোলার বিষয়েও জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ইউপিআই শীঘ্রই মালয়েশিয়ায় চালু হবে, যা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও জনসম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ফিনটেক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে, যেখানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, ভারত ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্ব এখন ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক ‘ইন্ডিয়া-মালয়েশিয়া পার্টনারশিপ ফর অ্যাডভান্সিং কালেক্টিভ ট্রান্সফরমেশন’ মন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ভারত অভূতপূর্ব পরিবর্তন দেখেছে। ১১তম অর্থনীতি থেকে ভারত এখন বিশ্বের শীর্ষ তিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল উৎপাদন, স্টার্ট-আপ, প্রতিরক্ষা রফতানি এবং স্বচ্ছ শক্তির ক্ষেত্রেও ভারত বড় সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের “ভারত-মালয়েশিয়া সম্পর্কের প্রাণবন্ত যোগসূত্র” হিসেবে অভিহিত করেন। তামিল, শিখ, গুজরাটি, তেলেগু, মালয়ালি সহ বিভিন্ন ভারতীয় সম্প্রদায়ের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি। শিখ সম্প্রদায়ের মাধ্যমে গুরু নানক দেব জির শিক্ষা— ‘নাম জপো, কিরত করো এবং ওয়ান্দ ছাকো’— বাঁচিয়ে রাখার বিশেষ উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, তামিল ভাষা ও সংস্কৃতি ভারতের অমূল্য ঐতিহ্য এবং মালয়েশিয়ার তামিল সম্প্রদায় কয়েক শতাব্দী ধরে সেখানকার সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করে আসছে। ইউনিভার্সিটি অফ মালয়ায় ‘তিরুভাল্লুভার চেয়ার’-এর পর এবার একটি ‘তিরুভাল্লুভার সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও করেন তিনি। এছাড়া বাটু কেভসের থাইপুসাম উৎসব, গরবার জনপ্রিয়তা এবং ভারতীয় ভাষায় শিক্ষা দানকারী স্কুলগুলোর ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ হওয়ার লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই যাত্রায় প্রবাসী ভারতীয়রা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি বলেন, “আপনার জন্ম কুয়ালালামপুরে হোক বা কলকাতায়, ভারত আপনাদের হৃদয়ে বাস করে। প্রবাসী ভারতীয়রা বিকশিত ভারত এবং সমৃদ্ধ মালয়েশিয়া গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।”

