সূর্যকুমারের আলোয় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ভারতের

 ক্রিকেটে তারা এখনও শিক্ষানবীশ। তবু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইটা যতটা একপেশে হবে বলে মনে করা হয়েছিল, বাস্তবে ততটা সহজ ছিল না। ওয়াংখেড়েতে শুরুতেই আমেরিকার বিরূদ্ধে অপ্রত্যাশিত চাপে পড়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। তবে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের অনবদ্য ইনিংস এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত ২৯ রানের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত।
টস জিতে মার্কিন অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান, তিলক বর্মারা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। শেডলি ভ্যান শাকউইক নামের তুলনামূলক নিরীহ মিডিয়াম পেসারের সামনে একের পর এক ধসে পড়ল ভারতের মিডল অর্ডার। শুরুতেই কভারের উপর দিয়ে মারতে গিয়ে আলি খানের বলে সঞ্জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে গোল্ডেন ডাক অভিষেক শর্মার। ঈশান কিষান কিছুটা আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করলেও ১৬ বলে ২০ রানে থামতে হয় তাঁকে। তিলক বর্মা করেন ২৫ রান। প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন শিবম দুবে। পাওয়ার প্লে-তে ৪ উইকেটে মাত্র ৪৬ রান—গত বিশ্বকাপের পর থেকে ভারতের তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর।
এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই একা দাঁড়িয়ে যান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। চারপাশে উইকেট পড়লেও এক প্রান্ত আগলে রেখে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাট করেন তিনি। অপ্রথাগত শট, নিখুঁত টাইমিং আর ম্যাচ সচেতন ব্যাটিংয়ে ৪৯ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন সূর্যকুমার। তাঁর লড়াইয়ের সৌজন্যেই ভারত কোনওরকমে ৯ উইকেটে ১৬১ রানের লড়াকু স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমেরিকার ইনিংস শুরু থেকেই ভারতীয় পেসারদের চাপে পড়ে যায়। ব্যাটিং সহায়ক ওয়াংখেড়ের পিচের অন্যরকম আচরণ ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছিল ভারতীয় বোলাররা। দ্বিতীয় ওভারেই মহম্মদ সিরাজ ফেরান আন্দ্রে গৌসকে (৬)। তৃতীয় ওভারে অর্শদীপ সিংয়ের বলে এলবিডব্লিউ হন মোনাঙ্ক প্যাটেল (০)। এরপর আবার সিরাজের ঝলক—সাইতেজা মাত্র ২ রানে সাজঘরে ফেরেন। ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় মার্কিন শিবির।
মাঝখানে মিলিন্দ কুমার ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির জুটিতে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরে আমেরিকা। তাঁদের মধ্যে ওঠে ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ। তবে মিলিন্দের অদ্ভুত স্টাম্প আউট হওয়া এবং ব্যক্তিগত ৩৭ রানে সঞ্জয়ের বিদায়ে সেই আশাও ভেঙে যায়। এরপর আর কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি মার্কিন ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৩২ রানেই থামে তাদের ইনিংস।
১৯ মাস আগে ব্রিজটাউনের সেই মায়াবী রাত এখনও ভারতীয় সমর্থকদের মনে তাজা। মাঠের মাঝে তেরঙ্গা গেঁথে দেওয়ার দৃশ্য আজও সজীব। সেই ইতিহাস কি আবারও ৮ মার্চ ফিরে আসবে? আগাম বলা কঠিন। তবে একথা নিশ্চিত—২০২৪ বিশ্বকাপের পর থেকে ৮৮ শতাংশ ম্যাচ জেতা সূর্যকুমারের দল যে এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার, তা পরিসংখ্যান আর পারফরম্যান্সই বলে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × one =