ঈশানের তাণ্ডবে বিকশিত ভারত

দেশের মাটিতে আবারও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে ভারত। সেই লক্ষ্যেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল প্রস্তুতির মঞ্চ। সিরিজের শেষ ম্যাচে তিরুঅনন্তপুরমে রানবন্যার মধ্যেও ভারতের জয় এল, কিন্তু স্বস্তির সঙ্গে জুড়ে রইল বড়সড় দুশ্চিন্তাও।

২৭১ রানের বিশাল স্কোর তুলেও ভারত শেষ পর্যন্ত জিতল ৪৬ রানে। স্কোরবোর্ডে ব্যবধান বড় মনে হলেও ম্যাচের ভেতরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ফিন অ্যালেনদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে একসময় মনে হচ্ছিল, অসম্ভব কিছু ঘটতে চলেছে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও যে হাতছানি দিচ্ছিল নিউজিল্যান্ডকে, তা অস্বীকার করার উপায় ছিল না। শেষ পর্যন্ত সেই ভয় কাটলেও ভারতের বোলিং যে প্রশ্নের মুখে, তা স্পষ্ট।

ব্যাটিংয়ে অবশ্য কোনও অভিযোগের জায়গা নেই। ঠিক বিশ্বকাপের আগে ফর্মে ফিরে ভারতীয় শিবিরকে স্বস্তি দিলেন সূর্যকুমার যাদব। তাঁর সঙ্গে বিধ্বংসী রূপে ধরা দিলেন ঈশান কিষান। দীর্ঘ দু’বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর এমন প্রত্যাবর্তন কল্পনাতীত। ৪৩ বলে ১০৩ রানের ইনিংসে কিউয়িদের বোলিং কার্যত তছনছ করে দিলেন ঈশান। ছ’টি চার, দশটি ছক্কা—স্ট্রাইক রেট প্রায় ২৫০। ঈশ সোধির এক ওভারে ২৯ রানই বলে দেয়, কী ভয়ংকর মেজাজে ছিলেন তিনি।

সূর্যকুমার ৬৩ রানে আউট হওয়ার পরও থামেনি ভারতের দাপট। শেষদিকে হার্দিক পাণ্ডিয়া ১৭ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। অভিষেক শর্মা শুরুটা করে দিয়েছিলেন ১৬ বলে ৩০ রান করে। তবে সঞ্জু স্যামসনের ব্যর্থতা ফের চিন্তা বাড়াল। ঘরের মাঠে সুযোগ পেয়েও তিনি আউট হলেন মাত্র ৬ রানে। উল্টো দিকে ঈশান শুধু ব্যাট হাতে নয়, উইকেটের পিছনেও দায়িত্ব সামলে বুঝিয়ে দিলেন—বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে তাঁর জায়গা নিয়ে আর সংশয়ের অবকাশ নেই।

কিন্তু এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোলিং বিভাগে। জশপ্রীত বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তীর মতো ভরসার নামগুলো প্রত্যাশামতো প্রভাব ফেলতে পারেননি। শিশিরের প্রভাব থাকলেও ২৭২ রান তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড যেভাবে সমানে সমানে লড়াই করল, তা চোখ কপালে তোলার মতো। অর্শদীপ সিং ৫১ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিলেও রান দেওয়ার হিসেব চোখে পড়েছে। শেষ দুই ওভারে অভিষেক শর্মা ও রিঙ্কু সিংকে দিয়ে বল করাতে হওয়াটাই বোলিং সংকটের ছবি তুলে ধরে।

সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে জিতে আত্মবিশ্বাস পাবে ভারত, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু গত বিশ্বকাপে যে বোলিং প্রতিটি ম্যাচের রং বদলে দিয়েছিল, সেই অস্ত্রটাই এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন। বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধু রান তোলা নয়, রান আটকানোই যে শিরোপার চাবিকাঠি—তিরুঅনন্তপুরম সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + 12 =