এই মরসুমে ক্রিকেট থেকে ফুটবল—দু’মাঠেই বাংলার ক্রীড়াজগতে উত্তেজনার কমতি নেই। মরসুমের শুরুটা বাংলার দলগুলোর জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক হলেও ফুটবলে সেই স্বপ্নের যাত্রা বেশিদূর এগোয়নি। সন্তোষ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে সার্ভিসেসের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে সঞ্জয় সেনের বাংলা দলকে। তবে ফুটবলের হতাশা কাটিয়ে এবার সব নজর ক্রিকেটের দিকে, যেখানে রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলার ক্রিকেট দল।
লক্ষ্মীরতন শুক্লার নেতৃত্বে চলতি রঞ্জি মরসুমে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলা। গ্রুপ পর্বে সাতটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয় এবং দুটি ম্যাচ ড্র করে মোট ৩৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তারা। পরিসংখ্যানের বিচারে এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু সমস্যা একটাই—নকআউটের চাপ। অতীত সাক্ষী, একাধিকবার রঞ্জির নকআউট পর্বে উঠে শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলা। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল—এই তিনটি ম্যাচই এবার বাংলার কাছে কার্যত হাইভোল্টেজ পরীক্ষা।
আগামী ৬ তারিখ কল্যাণীর ঘরের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলা। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় পিচ ও কন্ডিশন নিয়ে কিছুটা হলেও সুবিধা পাবে অভিমন্যু ঈশ্বরণরা, তা বলাই যায়। তবে প্রতিপক্ষ অন্ধ্রপ্রদেশ যে মোটেও দুর্বল দল নয়, সে কথা বাংলার শিবির ভালোভাবেই জানে। শক্তির বিচারে বাংলা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের ফল নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের উপরেই।
এই মুহূর্তে বাংলার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের পেস বোলিং লাইন-আপ। মহম্মদ শামি, আকাশদীপ এবং মুখেশ কুমার—এই তিন পেসারই ভারতীয় টেস্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটার। দেশের অন্যতম সেরা পেস আক্রমণ হিসেবে ধরা হচ্ছে এই বিভাগকে। এর সঙ্গে রয়েছেন আইপিএল খেলা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদের মতো স্পিনার, যিনি প্রয়োজনে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নিতে পারেন। সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে বাংলা বেশ শক্তিশালী দল।
তবে অন্ধ্রপ্রদেশের দলও কম চ্যালেঞ্জিং নয়। দলের অধিনায়ক রিকি ভুই একজন বাঙালি ক্রিকেটার। ছোটবেলায় বাবার কর্মসূত্রে অন্ধ্রে চলে যাওয়ায় সেখানেই বড় হওয়া এবং ক্রিকেটে হাতেখড়ি তাঁর। বাংলার প্রতি আলাদা টান থাকলেও এবার সেই বাংলার বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামতে হবে তাঁকে। ম্যাচের আগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী রিকি বাংলার বোলিং বিভাগের প্রশংসা করলেও জানিয়েছেন, তাঁদের দলেও কেএস ভরত ও নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো অভিজ্ঞ টেস্ট ক্রিকেটার রয়েছেন। পাশাপাশি রিকি নিজেও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা একজন ব্যাটসম্যান। বিজয় হাজারে ট্রফিতে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন দিল্লির বিরুদ্ধে তাঁর ১২২ রানের ইনিংস ক্রিকেটমহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দেয়, এমনকি কোহলির প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে বাংলা বনাম অন্ধ্রপ্রদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল যে জমজমাট লড়াই হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে রয়েছেন—এবার কি অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে রঞ্জির নকআউটে নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে বাংলা?

