চেনা ক্রিকেটীয় ধারা ভেঙে এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রিয়ান পরাগ। শনিবার গুজরাতের বিরুদ্ধে টসে জিতে তিনি বোলিং নয়, বরং প্রথমে ব্যাটিং করার পথ বেছে নেন—যা সাধারণত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খুব একটা দেখা যায় না। দিনের শেষে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত, যদি না শেষ দুই ওভারে রাজস্থান রীতিমতো নাটকীয়ভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিত।
রাজস্থান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১০ রান তোলে। জবাবে গুজরাত ২০৪/৮-এ থেমে যায়, ফলে ৬ রানের জয় পায় পরাগের দল। শেষ দুই ওভারে গুজরাতের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ১৫ রান, হাতে উইকেটও ছিল। কিন্তু সেই সময় জফ্রা আর্চার ও তুষার দেশপাণ্ডের দুর্দান্ত বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দু’জনেই চাপের মুখে মাত্র ৪ রান করে খরচ করেন, যা গুজরাতের জয়ের আশা শেষ করে দেয়।
গুজরাতের পক্ষে বড় ধাক্কা ছিল শুভমন গিলের অনুপস্থিতি। পেশিতে টান ধরায় তিনি খেলতে পারেননি। তাঁর বদলে অধিনায়কের দায়িত্ব নেন রশিদ খান। দলে সুযোগ পান কুমার কুশাগ্র, যিনি ওপেন করতে নেমে ১৪ বলে ১৮ রান করেন। শুরুটা খারাপ না হলেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি তিনি। জস বাটলারও (২৬) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাঁর আউটের পরই গুজরাতের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে—মাত্র ৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। একসময় স্কোর দাঁড়ায় ১৩৩/৫। রাহুল তেওটিয়া (১২) ও শাহরুখ খান (১১) কেউই দলকে টেনে তুলতে পারেননি।
অন্যদিকে, রাজস্থানের ব্যাটিং শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। বৈভব সূর্যবংশী শুরুতেই মহম্মদ সিরাজ ও কাগিসো রাবাডাকে চাপে ফেলে দেন। পাওয়ার প্লে-তে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৬৯ রান তোলে রাজস্থান। যদিও বৈভব বড় রান করতে পারেননি, তাঁর দ্রুত শুরু দলকে মজবুত ভিত দেয়।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন যশস্বী জয়সওয়াল ও ধ্রুব জুরেল। যশস্বী চলতি আইপিএলে নিজের প্রথম অর্ধশতরান করেন—৩৬ বলে ৫৫ রান, যার মধ্যে ছিল ছ’টি চার ও তিনটি ছয়। অন্যদিকে জুরেল খেলেন ম্যাচ জেতানো ইনিংস। ৪২ বলে ৭৫ রান করে তিনি রাজস্থানের স্কোর ২০০ পার করান। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছয়।
মাঝে রিয়ান পরাগ নিজে বড় রান করতে পারেননি (৮), আর শিমরন হেটমায়ার করেন ১৮। শেষদিকে রবীন্দ্র জাডেজা কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও সেই রানই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, এটি ছিল এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ যেখানে কৌশল, ব্যাটিং ও শেষ মুহূর্তের বোলিং—সবকিছু মিলিয়ে রাজস্থান প্রমাণ করল, সাহসী সিদ্ধান্তই কখনও কখনও ম্যাচ জেতায়। চলতি আইপিএলে এটি দ্বিতীয়বার, যখন প্রথমে ব্যাট করা দল জয় পেল।

