সিএবি (CAB)–এর ঘরোয়া ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের সমস্যা। ম্যাচে ভুল সিদ্ধান্ত, আউট–নট আউট, এলবিডব্লিউ বা ক্যাচ সংক্রান্ত বিতর্ক প্রায়ই ক্লাব ও সমর্থকদের অসন্তোষ তৈরি করে। এই অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও, তা কমিয়ে আনার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে সিএবি। বিশেষ করে, ক্লাব ক্রিকেটেও ডিআরএস (Decision Review System) চালু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা বঙ্গ ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
সম্প্রতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি–র প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় দায়িত্ব নিয়েছেন। আগেও তিনি ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করেছেন। এবারও তিনি স্থানীয় ক্রিকেটে ডিআরএস ব্যবহারের ব্যাপারে আগ্রহী। সিএবি সূত্রে খবর, ডিআরএস নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে এবং চলতি বছরের চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ড ও অবনমন পর্বের ম্যাচগুলোতে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সৌরভ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকলেও, যোগাযোগ করা হলে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ক্লাব ক্রিকেটে ডিআরএস চালু করা সিএবি–র পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ডিআরএস চালুর সবচেয়ে বড় বাধা হল লজিস্টিক ও মাঠ–পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অবনমন মিলিয়ে বহু ম্যাচ হয়, যা বিভিন্ন মাঠে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ডিআরএস চালু করতে হলে প্রয়োজন হক–আই (Hawk-Eye), আল্ট্রা-এজ (UltraEdge), বল-ট্র্যাকিং, রিভিউ মনিটর, উচ্চমানের ক্যামেরা সেট-আপ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ, এবং প্রশিক্ষিত প্রযুক্তি পরিচালন দল। সিএবি–র হাতে থাকা মাঠগুলোর মধ্যে ইডেন গার্ডেন্স, সল্টলেকের যাদবপুর ক্যাম্পাস, কল্যাণী, ভিডিওকন, এবং আদিত্য অ্যাকাডেমি–সহ ছয়–সাতটি মাঠে ডিআরএস প্রয়োগ কিছুটা সহজ হলেও, ময়দানের ছোট মাঠগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা অত্যন্ত কঠিন। মাঠগুলোর দর্শক–গ্যালারি, কন্ট্রোল রুম, ক্যাবলিং ব্যবস্থা, এবং ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল সেট করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ডিআরএস সেট-আপ প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়াও, মাঠ–প্রাপ্যতার সমস্যাও বড় চ্যালেঞ্জ। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে ইডেন গার্ডেন্স স্থানীয় ম্যাচের জন্য পাওয়া যাবে না, কারণ ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে এবং তখন ইডেন আইসিসি–র নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। বিশ্বকাপ শেষের দু’সপ্তাহ পর শুরু হবে আইপিএল। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপ শেষের কয়েকদিনের মধ্যেই কেকেআর (KKR) মাঠের দায়িত্ব নেবে। ফলে সিএবি–র হাতে বিকল্প বড় মাঠ খুব কম থাকছে, যা ডিআরএস চালুর পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবুও, প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্লাব ক্রিকেটে ডিআরএস চালু হলে, খেলোয়াড়দের মধ্যে পেশাদার মানসিকতা বাড়বে, ম্যাচে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, এবং আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক অনেকাংশে কমে যাবে। যদিও শুরুতেই সব মাঠে ডিআরএস ব্যবহার করা সম্ভব নয়, তবে ধাপে–ধাপে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা গেলে, তা ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করবে। শেষ পর্যন্ত যদি সিএবি স্থানীয় ক্রিকেটে ডিআরএস চালু করতে সক্ষম হয়, তবে তা শুধু কলকাতা ময়দান নয়, সমগ্র ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্যও একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হয়ে থাকবে।

