নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীর উদ্বেগ দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকার জানাল, দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি-র পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার নাগরিকদের গুজবে কান না দিয়ে আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশজুড়ে সমস্ত পেট্রোল পাম্প স্বাভাবিকভাবে চলছে। কাঁচা তেলের পর্যাপ্ত ভাণ্ডার রয়েছে এবং সব শোধনাগার উচ্চ ক্ষমতায় উৎপাদন করছে। পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহেও কোনও ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে।
সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে প্রতি লিটারে ১০ টাকা উৎপাদন শুল্ক কমিয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেলে ২১.৫ টাকা এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলে (এটিএফ) ২৯.৫ টাকা প্রতি লিটার রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
পাইপড গ্যাস (পিএনজি) ও সিএনজি-র ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ সরবরাহ বজায় রয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং সার কারখানাগুলিকে ৭০-৭৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত এলএনজি ও আরএলএনজি আমদানির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। মার্চ মাসে ২.৯ লক্ষের বেশি নতুন পিএনজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
এলপিজি সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিদিন ৫৫ লক্ষের বেশি গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণ করা হচ্ছে এবং কোনও ডিলারের কাছে ঘাটতির খবর নেই। অনলাইন বুকিং ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ডেলিভারি অথেনটিকেশন কোড ব্যবস্থাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগের স্তরের প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।
সরকার অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করেছে এবং কয়লার অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছে, যাতে এলপিজির ওপর চাপ কমে। মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে দেশজুড়ে প্রায় ২,৯০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১,০০০ সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলি ১,২০০-র বেশি পাম্প ও গ্যাস এজেন্সিতে নজরদারি চালিয়ে ৪৮০টি নোটিস জারি করেছে।
সমুদ্রপথে সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। পশ্চিম পারস্য উপসাগর এলাকায় ১৮টি ভারতীয় জাহাজে ৪৮৫ জন নাবিক কর্মরত রয়েছেন। দুটি এলপিজি জাহাজ প্রায় ৯৪,০০০ মেট্রিক টন গ্যাস নিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। একটি ৩১ মার্চ মুম্বই এবং অন্যটি ১ এপ্রিল নিউ মাঙ্গালুরু পৌঁছবে। দেশের সব বন্দরেই কাজকর্ম স্বাভাবিক রয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দূতাবাসগুলি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে এবং হেল্পলাইনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫.২৪ লক্ষ ভারতীয় দেশে ফিরেছেন। যেসব এলাকায় আকাশপথ বন্ধ, সেখানে বিকল্প রুটে যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

