দীর্ঘদিন জটিলতা চলার পর অবশেষে আইএসএল শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবেকে পাশে নিয়ে ঘোষণা করেছিলেন আইএসএলের। সংক্ষিপ্ত এবং জৌলুশহীন এবারের আইএসএল ভারতীয় ফুটবলের জন্য একেবারেই ভালো বিজ্ঞাপন নয়। বেশিরভাগ দলের বিদেশি ফুটবলাররা ক্লাব ছাড়ছেন। ইস্টবেঙ্গলও রয়েছে সেই দলে, মোহনবাগান যদিও ব্যতিক্রম। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বেতন কমিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এফসি গোয়ার প্রথম দলের ফুটবলার-সহ সাপোর্ট স্টাফরা। অন্য বেশ কিছু ক্লাবও ফুটবলারদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এবার হস্তক্ষেপ করেছে ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রো। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, বেতন কমানোর জন্য কোনও প্রকার চাপ সৃষ্টি করা যাবে না ফুটবলারদের উপর। সম্পূর্ণ মতামত নিয়ে আলোচনা করে তবেই ফুটবলারদের বেতন কমানো যাবে।
এই ফিফপ্রো সংস্থা গোটা বিশ্বের ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করে। শুক্রবার এই সংস্থার এশিয়া/ওশিয়ানিয়া শাখার তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আইএসএল নিয়ে একটি বার্তা দেওয়া হয়। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়, ভারতীয় ফুটবলে অচলাবস্থার কথা। ফুটবলাররা যথেষ্ট ধৈর্য্য ধরে ছিলেন এতদিন। এত দেরি করে শুরু হচ্ছে লিগ, ফলে এরপর যেন ফুটবলারদের আর আত্মত্যাগ করতে না হয়।
এফসি গোয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য ফুটবলাররা নিজে থেকেই সম্মতি জানিয়েছে বেতন কমানোর সিদ্ধান্তে। ওই সংস্থা জানিয়েছে, ‘ফিফপ্রো সম্প্রতি জানতে পেরেছে কয়েকটি ক্লাব চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের বেতন কমাতে চাপ দিচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ ফিফা ও এআইএফএফ-এর নিয়মাবলির আওতায় খেলোয়াড়দের মৌলিক সুরক্ষাকে ক্ষুণ্ন করে। ক্লাবগুলোর কর্তব্য খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বার্থ দেখা ও চুক্তির শর্তকে অপরিবর্তিত রাখা। তবে কোনও খেলোয়াড় যদি স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নেয়, ফিফপ্রো তা সম্মান করে। কিন্তু যদি চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়, তবে তা অন্যায্য। এক্ষেত্রে সেই খেলোয়াড় সম্পূর্ণভাবে ফিফপ্রো ও ভারতীয় ফুটবলারদের সংগঠনের উপর ভরসা করতে পারে।’

