যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভূত সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার দুপুরে লোকসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “যখন এই ধরনের সংকট দেখা দেয়, তখন কিছু অসাধু মানুষ পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে।

তাই, উপকূলীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা-সহ আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সমস্ত সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতি দীর্ঘকাল ধরে চলতে পারে। তাই, আমাদের অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। করোনাভাইরাস মহামারীর সময় ঐক্যবদ্ধ থেকে আমরা আগেও এই ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছি। আমাদের অবশ্যই খুব সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কিছু মানুষ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করবে। আমরা অবশ্যই এই ধরনের লোকদের সফল হতে দেব না।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমি রাজ্য সরকারগুলির কাছেও আবেদন করব, এমন সময়ে কালোবাজারি ও মজুতদারি বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। সুতরাং, কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এই ধরনের কার্যকলাপের দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

ভারত সর্বদাই মানবতা ও শান্তির পক্ষে

ভারত সর্বদাই মানবতা ও শান্তির পক্ষে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত নিয়ে লোকসভায় বলতে এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “ভারতের ভূমিকা সুস্পষ্ট। আমরা একেবারে শুরু থেকেই এই সংঘাত নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। আমি নিজে পশ্চিম এশিয়ার সকল সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি সবাইকে উত্তেজনা কমাতে এবং এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে আহ্বান জানিয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত বেসামরিক নাগরিক, জ্বালানি ও পরিবহন পরিকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ভারত সর্বদা মানবতার স্বার্থে এবং শান্তির পক্ষে কথা বলেছে।এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো সংলাপ ও কূটনীতি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই যুদ্ধের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারতে গ্রীষ্মের আগমন। আগামী দিনে তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা কেবল বাড়তেই থাকবে। বর্তমানে দেশের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার মজুত রয়েছে। ভারত টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ১ বিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদনের রেকর্ড অর্জন করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যন্ত আমাদের সমস্ত ব্যবস্থা ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী এদিন লোকসভায় আরও বলেন, “আরেকটি প্রশ্ন হলো কৃষির উপর যুদ্ধের প্রভাব। আমাদের দেশের কৃষকেরা খাদ্যশস্যের ভান্ডার পূর্ণ করেছেন, তাই খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে ভারত ভালোভাবে প্রস্তুত। আমরা খরিফ মরশুমের বীজ বপন যাতে সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যও প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এজন্য, সরকার যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রেখেছে। অতীতেও আমাদের সরকার বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব কৃষকদের ওপর পড়তে দেয়নি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 + thirteen =