শেষ চারের টিকিট হাতছাড়া হল একেবারে শেষ মুহূর্তে। জিতলেই সেমিফাইনালে চলে যেত নিউজিল্যান্ড। কিন্তু রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের শেষে ফাইনাল ওভারে ম্যাচ হেরে শুক্রবার নিজেদের পথ বন্ধ করে দিল কিউইরা। নাটকীয় সেই ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল ইংল্যান্ড। যদিও ইংল্যান্ডের কাছে এই জয় ছিল অনেকটাই নিয়মরক্ষার, কারণ তারা আগেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। বরং এই ফলাফলে সবচেয়ে বেশি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল পাকিস্তান—কারণ ইংল্যান্ডের জয়ের সুবাদে বিশ্বকাপে খাতায়-কলমে এখনও টিকে রইল তারা।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। শুরুটা ছিল একেবারে স্বপ্নের মতো। দুই ওপেনার যেভাবে রান তুলছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল অনায়াসেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে দল। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই চাপ বাড়াতে শুরু করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় সপ্তম ওভারের শেষ বলে। ইংল্যান্ডের লেগস্পিনার আদিল রশিদ বড়সড় ফাঁদ পাতেন টিম সেফার্ট-এর জন্য। ৩৫ রান করে ফেরেন তিনি। পরের ধাক্কা আসে দ্রুতই। আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন ফিন অ্যালেন (২৯)। মুহূর্তে স্কোরলাইন বদলে যায়—৬৪/০ থেকে ৬৬/২।
এরপর ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন গ্লেন ফিলিপস। তাঁর ৩৯ রানের ইনিংসই মূলত নিউজিল্যান্ডকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছতে সাহায্য করে। তবে অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়ায় গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ১৪ ওভারে যেখানে স্কোর ছিল ১২৩/৩, সেখানে শেষ ৬ ওভারে মাত্র ৩৬ রান তুলতে পারে কিউইরা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে তাদের ইনিংস থামে ১৫৯/৭-এ। তখনই অনেকের মনে হচ্ছিল, এখানেই বুঝি ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন অনেকটা ফিকে হয়ে গেল।
১৬০ রানের লক্ষ্য কাগজে-কলমে খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু ইংল্যান্ড শুরু থেকেই ম্যাচটাকে জটিল করে তুলতে চেয়েছিল। মাত্র ২ রানের মধ্যে তারা হারায় ২ উইকেট। চাপের মুখে ইংল্যান্ডের হাল ধরেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন জ্যাকব বেথেল। দু’জনের ৫০ রানের জুটি ম্যাচে সাময়িক স্থিতি ফেরায়। তবে ব্রুক (২৬) ফিরতেই আবার উত্তেজনা বাড়ে। কিছুক্ষণ পর বেথেলও (২১) আউট হন। এরপর ভালো খেলতে খেলতেই বড় শট মারতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দেন স্যাম কারান (২৪)। তখন স্কোর ১০০/৫।
এরপর থেকে ম্যাচের ভাগ্য যেন পিংপং বলের মতো একবার এদিক, একবার ওদিক ঘুরছিল। শেষ পর্যন্ত সমীকরণ দাঁড়ায়—শেষ ১২ বলে ২১ রান দরকার। ১৯তম ওভারে একটি বাউন্ডারি ও লং অফের উপর দিয়ে একটি ছক্কায় আসে ১৬ রান। ফলে শেষ ওভারে দরকার মাত্র ৫। সেই রান তুলতেই ইংল্যান্ডের লাগে মাত্র তিন বল। জয় নিশ্চিত হতেই উচ্ছ্বাসে মাতে ইংলিশ শিবির। আর হতাশায় ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ড ।

