
◆ অশোক সেনগুপ্ত
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও-দের মৃত্যুর উপর্যুপরি অভিযোগে রীতিমত অস্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন। এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) জানালেন, আইন বা বিধি-র বাইরে গিয়ে এ ব্যাপারে ইসি কিছু করতে পারবে না।
রবিবার আলিপুরে ‘ধনধান্যে’ প্রেক্ষাগৃহে নির্বাচন কমিশন আয়োজিত জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে এসম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে এই মন্তব্য করেন তিনি। সমাবেশে উপস্থিত একাধিক বুথ লেভেল আধিকারিক অনুষ্ঠান চলাকালীনই প্রশ্ন তোলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন এত বিএলও মারা গিয়েছেন। কেন সেটা স্বীকার করে কমিশনের তরফে মৃতদের পরিবারবর্গকে পর্যাপ্ত সহায়তা করা হবে না?
জবাবে সিইও বলেন, এ ব্যাপারে আমরা সত্যি দুঃখিত। মৃত অনেক বিএলও-র পরিবারের সদস্যর সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। সিইও অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক, ডিএলও এবং ইআরও-দের বলা হয়েছে মৃত বিএলও-দের ময়নাতদন্ত ও পুলিশ রিপোর্ট-সহ এ ব্যাপারে আবশ্যিক রিপোর্ট দাখিল করতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা রিপোর্টেরও উত্তর আমাদের কাছে আসেনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার বলেছেন যে রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রতিদিন তিন থেকে চারজন মানুষ আত্মহত্যা করে মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের এই মৃত্যুর দায় নেওয়া উচিত।
তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, “১১০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। কেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে না? এই মৃত্যুর জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনকে দায় নিতে হবে, ভারত সরকারকেও দায়িত্ব নিতে হবে।” নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সিইও এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের পক্ষে স্বতপ্রণোদিত কোনও পদক্ষেপ করা সম্ভব নয়। কেবল নিছক অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত বিএলও-দের আর্থিক সহায়তা করার কোনও বিধান নেই। বিষয়টা অর্থাৎ, ওই মৃত্যুর নিশ্চিত কারণসমূহ সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে আনতে হবে।
দিব্যেন্দুবাবু বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেরকম প্রচারের চেষ্টা চলছে, তাতে সাধারণ মানুষের অনেকে আতঙ্কিত। শিক্ষিত লোকেরা বিভ্রান্ত। তাই এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আরও সংযম ও সহযোগিতা প্রার্থনা করেন।
সিইও ছাড়াও অতিরিক্ত সিইও দিব্যেন্দু দাস
এসআইআর প্রক্রিয়ায় কর্মীদের নিদারুণ পরিষেবার প্রশংসা করে তাঁদের নেপথ্যনায়ক (‘আনসাং হিরো’) বলে অভিহিত করেন। মঞ্চের ভাষণে ভোটকর্তারা জানান, রাজ্যে এই এসআইআর-এ জেলা নির্বাচনী অফিসার (ডিইও), ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং সহকারী ইআরও-র সংখ্যা যথাক্রমে ২৪, ২৯৪ ও ৭৩২৭। সুপারভাইজর, বিএলও এবং বিএলএ-র সংখ্যা যথাক্রমে
৮ হাজার ১৩৬, ৮০ হাজার ৬৮১ ও ২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৯৫। এঁদের কাজে তদারকির জন্য মাইক্রো অবজার্ভার আছেন ৭ হাজারের ওপর। রোল অবজার্ভার ৩৩ জন।

