ভোটের মুখে বড় রদবদল, ৭৩ রিটার্নিং অফিসার সরাল কমিশন

@ECI

@wbassebly

@election

@ceo
কলকাতা : ভোট যত এগোচ্ছে, প্রশাসনিক স্তরে ততই কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ বার এক ধাক্কায় রাজ্যের ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কমিশন, যাঁদের অধিকাংশই মহকুমাশাসক পদে কর্মরত ছিলেন। সোমবার এই মর্মে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি হয়। রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র থাকায় সাধারণত প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে রিটার্নিং অফিসার থাকেন—সেই হিসেবেই এই ব্যাপক রদবদল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
কমিশনের নির্দেশ অনুসারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহকুমায় নতুন আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, মালদহ সদর, মুর্শিদাবাদের লালবাগ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন মহকুমা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান—রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পুনর্বিন্যাস ঘটল।
এর আগে গত সপ্তাহেই একাধিক জেলাশাসককে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। মোট ১১টি জেলার প্রশাসনিক প্রধান বদল করা হয়, যাঁরা একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনী দায়িত্বেও ছিলেন। নতুন করে তাঁদের অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। কমিশনের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে স্পষ্ট, আসন্ন ভোটকে ঘিরে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই কমিশনের এই সক্রিয়তাকে প্রশ্নের মুখে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, “রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই একতরফা ভাবে আধিকারিকদের সরানো হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, “আগে এমন পরিস্থিতিতে কমিশন রাজ্যের কাছ থেকে তিন জনের একটি প্যানেল চাইত, সেখান থেকে বেছে নেওয়া হত। এ বার সেই প্রথা মানা হয়নি।”
এদিকে, এই ব্যাপক রদবদলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তোলেন কমিশনের ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে। যদিও কমিশনের তরফে স্পষ্ট সাফাই দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, “অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার জন্য এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই সব সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অনেক কারণ রয়েছে। পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে, সব জায়গায় পরিস্থিতি এক নয়। অন্যত্রও অফিসার বদলি করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়।”
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে একের পর এক পরিবর্তন ঘটছে। মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে পুলিশ কমিশনার, ডিজি, এডিজি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ইতিমধ্যেই হয়েছে। কমিশনের এই ধারাবাহিক হস্তক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যতই বাড়ুক, স্পষ্ট যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণভাবে কমিশনের হাতে কেন্দ্রীভূত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 2 =