কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই প্রশাসনিক স্তরে কড়া নজরদারি শুরু করল নির্বাচন কমিশন। অতীতের ভোট-পরবর্তী অশান্তির অভিজ্ঞতা সামনে রেখে এবার নতুন করে তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে রাজ্য পুলিশের কাছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যের পুলিশ প্রধান পীযূষ পাণ্ডেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় যেসব এলাকায় সহিংসতার অভিযোগ উঠেছিল, সেই সব থানার তৎকালীন ওসি-দের পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দিতে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এই তথ্য পাঠাতে হবে।
কমিশনের শীর্ষ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, অতীতের ঘটনাবলির উপর ভিত্তি করেই এবার প্রশাসনিক দায়িত্বের হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে প্রশাসনিক বৈঠকেও এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং পুলিশ-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিভিন্ন নোডাল আধিকারিক।
বৈঠকে আগের নির্বাচনের সময়কার অশান্তির ঘটনাগুলি বিশদে আলোচনা হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, সে সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না।
এদিকে ভোট ঘোষণার রাতেই রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে বড়সড় রদবদল করেছে কমিশন। মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুশমন্ত নাড়িয়ালওয়ালাকে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকেও অপসারিত হয়েছেন জগদীশ প্রসাদ মীনা । নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সংঘমিত্রা ঘোষ ।
ভোটের আগে অতীতের সহিংসতার নথি খতিয়ে দেখার এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কমিশনের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট, আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

