কয়লা কেলেঙ্কারি : কলকাতায় ইডির চার্জশিট পেশ, ৬৫০ কোটির দুর্নীতির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

কলকাতা : প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার কয়লা চুরি এবং তোলাবাজি মামলায় পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কলকাতার বিশেষ আদালতে চার্জশিট দাখিল করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইডির কলকাতা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে পেশ করা এই চার্জশিটে চিন্ময় মণ্ডল, কিরণ খান এবং তাঁদের সহযোগীদের নাম রয়েছে। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট-এর অধীনে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি একটি সুসংগঠিত চক্র যা অবৈধ কয়লা খনি, চুরি, বেআইনি পরিবহন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে চলত। ইডি-র তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, কয়লা পরিবহন এবং এই সিন্ডিকেট সচল রাখতে রাজ্য সরকারের কিছু আধিকারিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়মিত ঘুষ দেওয়া হতো। দুর্গাপুর ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল), সিআইএসএফ এবং স্থানীয় পুলিশের দায়ের করা মোট ৫৪টি এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু করে ইডি।

তদন্তে জানা গিয়েছে, চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খান একটি সুসংগঠিত কয়লা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি তাঁদের পিএমএলএ-র ১৯ নম্বর ধারায় গ্রেফতার করা হয়। ইডি-র দাবি, এই সিন্ডিকেট বৈধ লটারির ডেলিভারি অর্ডার হোল্ডার, পরিবহনকারী এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে পদ্ধতিগতভাবে তোলা আদায় করত। এই তোলাবাজিকে ‘জিটি’ (গুন্ডা ট্যাক্স) বা ‘রঙদারি ট্যাক্স’ বলা হতো, যা কাগজে-কলমে হ্যান্ডলিং ফি বা দান হিসেবে দেখানো হতো।

জানা গিয়েছে, প্রতি টন কয়লায় ২৭৫ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত তোলা নেওয়া হতো, যা কয়লার প্রকৃত মূল্যের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। এই জুলুমের কারণে বরাদ্দ হওয়া কয়লা অনেকেই তুলতে পারতেন না, ফলে ইসিএল-এর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র এই তোলাবাজির মাধ্যমেই ৬৫০ কোটি টাকারও বেশি বেআইনি আয় হয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ব্যাঙ্কের নথি এবং ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ এবং ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর অভিযানে প্রায় ১৭.৫৭ কোটি টাকা নগদ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইডি-র মতে, অভিযুক্তরা ভুয়ো কোম্পানি খুলে এই কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + 17 =