একটা সময় মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের বদলি হিসেবে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া স্কটল্যান্ড হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সত্যিই চাপে ফেলে দিতে পারবে। ইডেন গার্ডেন্সের স্পোর্টিং উইকেটে ১৮৩ রানের লক্ষ্য মোটেই অসম্ভব ছিল না। কিন্তু সব অঙ্ক একাই ওলটপালট করে দিলেন রোমারিও শেপার্ড। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের বিধ্বংসী এক ওভারেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল স্কটিশ স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত ৩৫ রানে ম্যাচ জিতে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ইডেনে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্কটল্যান্ড। উইকেট দেখে সেই সিদ্ধান্ত খুব একটা ভুল মনে হয়নি। তবে ব্যাট হাতে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা। শিমরন হেটমেয়ার আবারও বড় ম্যাচের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে মেলে ধরলেন। মাত্র ৩৬ বলে ৬৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল পাওয়ার আর টাইমিংয়ের নিখুঁত মিশেল। হেটমেয়ারের সঙ্গে শেষদিকে ক্যামিও খেলেন সেরফান রাদারফোর্ড (১৩ বলে ২৬) ও অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল (১৪ বলে ২৪)। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮২ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি স্কটল্যান্ডের। ক্যারিবিয়ান পেস আক্রমণের সামনে প্রথম দিকেই চাপে পড়ে যায় তারা। ষষ্ঠ ওভারেই মাত্র ৩৭ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে বসে স্কটিশরা। তখনই মনে হচ্ছিল ম্যাচটা একপেশে হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেখান থেকে দারুণ লড়াইয়ে ফেরান অধিনায়ক রিচি বেরিংটন ও টম ব্রুস। দু’জনের ব্যাটে ভর করেই আবার ম্যাচে ফিরতে শুরু করে স্কটল্যান্ড।
বেরিংটন ও ব্রুসের ৭৮ রানের জুটি ম্যাচে নতুন প্রাণ এনে দেয়। তাঁদের সংযত কিন্তু আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, হয়তো এবার ইতিহাস গড়ার সুযোগ আসছে স্কটল্যান্ডের সামনে। ক্যারিবিয়ান শিবিরেও তখন চাপ স্পষ্ট। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে গেল অধিনায়ক বেরিংটনের উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই।
১৫তম ওভারে বল হাতে নিয়ে তাণ্ডব চালান রোমারিও শেপার্ড। সেই এক ওভারেই হ্যাটট্রিক-সহ চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। পরপর আউট হন ম্যাথু ক্রস, মাইকেল লিস্ক এবং অলিভার ডেভিডসন। একই ওভারে ফিরে যান সাফিয়ান শরিফও। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে স্কটল্যান্ডের ইনিংস। যে ম্যাচে একটু আগেও লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল, সেটাই চোখের পলকে একেবারে একপেশে হয়ে যায়।
পুরো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন শেপার্ড। তাঁর ওই বিধ্বংসী স্পেলেই কার্যত শেষ হয়ে যায় স্কটল্যান্ডের জয়ের সব আশা। শেষ পর্যন্ত ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় স্কটিশ ইনিংস। ৩৫ রানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের শক্তির জানান দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ইডেন গার্ডেন্সের দর্শকরা প্রত্যক্ষ করলেন রোমারিও শেপার্ড নামের এক ‘ম্যাচ উইনার’-এর একক শাসন।

