সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে বোনাস পয়েন্টে জয়,  নকআউট নিশ্চিত অভিমুন্য বাহিনীর!

শনিবারেই ছবিটা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রঞ্জি ট্রফিতে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে ম্যাচে ইনিংস জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল বাংলা। ফলো-অন করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে সার্ভিসেস পিছিয়ে ছিল ১০২ রানে, হাতে ছিল মাত্র দুইটি উইকেট। চতুর্থ দিনের সকালে সামান্য লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও হার এড়াতে পারেনি তারা। শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের ইতি টানেন আকাশ দীপ ও শাহবাজ় আহমেদ। ইনিংস ও ৪৬ রানে বড় জয় তুলে নিয়ে সাত পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ ‘সি’-র শীর্ষে উঠে এল লক্ষ্মীরতন শুক্লার নেতৃত্বাধীন বাংলা দল। রঞ্জি ট্রফিতে এখনও পর্যন্ত অপরাজিতই রইল বাংলা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় বাংলার ব্যাটাররা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রানের পাহাড় গড়ে তোলেন তারা। অসাধারণ ডাবল সেঞ্চুরি করেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। ৩২৭ বল খেলে ২০৯ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন তিনি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সুদীপকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন, যিনি দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৮১ রান করেন। মিডল অর্ডারে দৃঢ়তা দেখান উইকেটকিপার-ব্যাটার শাকির হাবিব গান্ধী। সাত নম্বরে নেমে তিনি অপরাজিত থাকেন ৯১ রানে। এই তিনজনের ব্যাটে ভর করে বাংলার প্রথম ইনিংস থামে ৫১৯ রানে।
এত বড় রানের পাহাড়ের সামনে স্বাভাবিকভাবেই প্রবল চাপে পড়ে যায় সার্ভিসেস। সেই চাপকে পুরোপুরি কাজে লাগান বাংলার পেসাররা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৮৬ রানেই অল আউট হয়ে যায় সার্ভিসেস। বাঁহাতি পেসার সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল একাই চারটি উইকেট তুলে নেন। তাঁকে কার্যকরভাবে সহায়তা করেন মহম্মদ সামি ও আকাশ দীপ। আকাশ নেন তিনটি উইকেট, সামির ঝুলিতে যায় দুইটি। ৩৩৩ রানে পিছিয়ে থাকায় সার্ভিসেসকে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন।
দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয় সার্ভিসেস। মোহিত আহলাওয়াট ৬২ ও রজত পাল্লিওয়াল ৮৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। জয়ন্ত গোয়াত অপরাজিত থাকেন ৬৭ রানে। তবে এই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। বাংলার বোলিং আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হয় তাদের। মহম্মদ সামি একাই পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজের প্রভাব স্পষ্ট করে দেন। মুকেশ, সুরজ ও আকাশ দীপ ভাগ করে নেন বাকি উইকেটগুলো। সার্ভিসেসের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ২৮৭ রানে।
এর ফলে ইনিংস ও ৪৬ রানে বড় জয় নিশ্চিত করে বাংলা। এই জয়ের সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে রইল অনুষ্টুপ মজুমদারের শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বাংলা দল যে এ মরসুমে রঞ্জি ট্রফিতে বড় কিছু করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, এই ম্যাচ তারই স্পষ্ট প্রমাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + seven =