১৫ অক্টোবর ইডেনে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে মৌসুমের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলা। রঞ্জি মৌসুম শুরুর আগে তাই এখন পুরোপুরি প্রস্তুতিতে মগ্ন অভিমান্যু ঈশ্বরণরা। সল্টলেকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মাঠে টানা চলছে প্র্যাকটিস। প্রধান কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা এবং সহকারী কোচ শিবশঙ্কর পালের তত্ত্বাবধানে ঘাম ঝরাচ্ছেন সবাই। সকাল নয়টায় প্র্যাকটিস শুরু হয়। প্রথমে ফিটনেস ট্রেনিং, তারপর নেটে ব্যাটিং-বোলিং। অধিনায়ক অভিমান্যু ঈশ্বরণ এবং সহ-অধিনায়ক অভিষেক পোড়েল নেতৃত্বে অনুশীলনে ভরপুর উৎসাহ দেখা গেল। কোচ শুক্লা বারবার বলছেন, “প্রথম ম্যাচটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
জেতার আত্মবিশ্বাস নিয়েই মৌসুম শুরু করতে হবে।” অভিষেক পোড়েল উইকেটের পেছনে যেমন দক্ষ, তেমনি ব্যাট হাতেও আত্মবিশ্বাসী। নেটে তাঁকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে দেখা গেল। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ অনুস্টুপ মজুমদার ও সুদীপ চ্যাটার্জি তরুণদের সঙ্গে মিলে ব্যাটিং সেশনে দারুণ ছন্দে। সুদীপ কুমার ঘোরামি ও সুমন্ত গুপ্তকেও মনোযোগী দেখা গেল। বোলিং বিভাগে নজর কাড়লেন বিশাল ভাট্টি , সুমন্ত গুপ্ত ও ঈশান পোড়েল । এবং সূত্রের খবর ১২ ই অক্টোবর অর্থাৎ রোববারে দলের দুই তারকা ফাস্ট বোলার মোঃ শামীম এবং আকাশদ্বীপ সিং দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবেন। বোলিং কোচ শিবশঙ্কর পাল প্রত্যেককে আলাদা করে নির্দেশ দিচ্ছিলেন— বিশেষ করে লাইন-লেংথ ধরে রাখার বিষয়ে। আকাশদীপের পেস ও সুইং দেখে কোচ শুক্লা খুশি। শিবশঙ্কর বলেন, “প্রতিটি বোলারকেই এখন ম্যাচ পরিস্থিতি মাথায় রেখে বোলিং করতে শেখানো হচ্ছে। উইকেটের সহায়তা নয়, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই মূল কথা।”
ফিল্ডিংয়েও জোর দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিকাশ সিং, সৌরভ কুমার সিং ও রাহুল প্রসাদকে একাধিকবার স্লিপ ক্যাচ প্র্যাকটিসে দেখা যায়। সহকারী কোচ নিজে দাঁড়িয়ে নির্দেশ দেন— “ক্যাচ মিস মানেই ম্যাচ হার!” এদিন প্র্যাকটিস শেষে অভিমান্যু বলেন, “দল হিসেবে আমরা খুবই ইতিবাচক। গত মরসুমে কিছু জায়গায় ঘাটতি ছিল, এ বার তা পূরণ করতে চাই। প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।” বাংলার ১৮ সদস্যের দলে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণ উদ্যমের সুন্দর মিশেল দেখা যাচ্ছে। অনুস্টুপ, সুদীপদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কাজই জুনাইদ সফি, শাকির হাবিব গান্ধীদের মতো নতুন মুখদের সুযোগ মিলেছে।
কোচ শুক্লা বলেন, “এই দল ভারসাম্যপূর্ণ। সিনিয়ররা তরুণদের দারুণভাবে সাহায্য করছে। এটা খুব ভালো দিক।” ইডেনে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচকে সামনে রেখে আগামী কয়েকদিন আরও নিবিড় অনুশীলন চলবে। স্পিনার সুজিত মোহান্ত ও বিশাল ভাট্টির জন্য বিশেষ সেশন রাখা হয়েছে। ব্যাটসম্যানদের জন্য ‘ডেথ ওভার’ অনুশীলনও চলছে। বাংলা দলের লক্ষ্য একটাই— প্রথম ম্যাচেই জয়ের সূচনা। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে প্রতিটি খেলোয়াড়ের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন, ইডেনের গ্যালারিতে বাংলার পতাকা উড়বে বিজয়ের আনন্দে।

