রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলার ওঠা যে সময়ের অপেক্ষা, তা আর নতুন করে প্রমাণের দরকার ছিল না। কল্যাণীর মাঠে অন্ধ্রপ্রদেশকে ইনিংস ও ৯০ রানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা পাকা করল অভিমন্যু ঈশ্বরণদের দল।
কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ইনিংসেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল বাংলা। অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে ৩৩৪ রানের বিশাল লিড পেয়ে যাওয়ার পর কার্যত অসম লড়াইয়ে নেমে পড়েছিল প্রতিপক্ষ। এত বড় ব্যবধানের চাপ দ্বিতীয় ইনিংসেও সামলাতে পারেনি অন্ধ্রের ব্যাটাররা। শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে। নীতীশ রেড্ডি ৯০ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেষদিকে ত্রিপূর্ণ বিজয় ৪৬ রান করে লড়াই চালালেও, ইনিংসের হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় অন্ধ্রপ্রদেশ। ফলে ইনিংস ও ৯০ রানে জয়ের হাসি হাসে বাংলা।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শাহবাজ় আহমেদ। বাঁহাতি স্পিনার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে অন্ধ্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। সূরজ সিন্ধু জয়সওয়াল নেন ২ উইকেট। আকাশ দীপ, সুমন্ত গুপ্ত ও অনুষ্টুপ মজুমদার একটি করে উইকেট পান। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া মুকেশ কুমার দ্বিতীয় ইনিংসে সফল না হলেও, তাতে দলের জয়ে কোনও প্রভাব পড়েনি। একইভাবে উইকেটশূন্য থাকেন মহম্মদ শামিও।
তবে এই জয়ের আসল ভিত গড়ে দেন বাংলার ব্যাটাররাই। সুদীপ ঘরামি, সুমন্ত গুপ্ত ও শাকির হাবিব গান্ধীর ব্যাটিংয়ে ভর করেই এক ইনিংসে ৬২৯ রানের পাহাড় গড়ে তোলে বাংলা। সুদীপ ২৯৯ রানে আউট হয়ে মাত্র এক রানের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন। সুমন্ত করেন ৮১ এবং শাকির করেন ৯৫ রান। অন্ধ্রপ্রদেশের বোলিং আক্রমণ কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে তাঁদের সামনে। বাংলার একটি ইনিংসের জবাব দুই ইনিংস মিলিয়েও দিতে পারেনি অন্ধ্র।
এবার সেমিফাইনালে বাংলার সামনে জম্মু-কাশ্মীর। এই প্রথম রঞ্জির শেষ চারে উঠেছে তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে মধ্যপ্রদেশকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর, ফলে বাংলার লড়াই সহজ হবে না। তবে বাংলার জন্য স্বস্তির খবর, সেমিফাইনাল হবে ঘরের মাঠেই। গ্রুপ পর্বে সর্বাধিক পয়েন্ট থাকার সুবাদে কল্যাণীর মাঠে খেলার সুবিধা পাচ্ছে বাংলা। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এই সেমিফাইনাল। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি কর্নাটক ও উত্তরাখণ্ড।

