ঘরামির ব্যাটে, রঞ্জি সেমিতে পাল্টা লড়াই বাংলার

কোয়ার্টার ফাইনালে যে ব্যাটিং মহাকাব্য রচনা করেছিলেন, সেমিফাইনালেও যেন সেই ধারাবাহিকতারই পুনরাবৃত্তি। কথা হচ্ছে সুদীপ কুমার ঘরামিকে নিয়ে। রনজি ট্রফি-র ইতিহাসে তাঁর ২৯৯ রানের ইনিংস ইতিমধ্যেই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। আর জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের প্রথম দিনেও বাংলার ইনিংসকে ভরসা দিলেন তিনিই। তাঁর সেঞ্চুরির সৌজন্যে দিনের শেষে বাংলার স্কোর ৫ উইকেটে ২৪৯।
কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ডে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জম্মু-কাশ্মীর অধিনায়ক পরশ ডোগরা। শুরুটা অবশ্য বাংলার জন্য সুখকর ছিল না। ইনিংসের গোড়াতেই শূন্য রানে ফেরেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। চাপে পড়ে যায় ড্রেসিংরুম। তবে অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও সুদীপ ঘরামি মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধৈর্য ধরে, বলের গুণাগুণ বিচার করে এগোচ্ছিলেন দু’জনেই।
কিন্তু বিপক্ষ দলে রয়েছেন ‘কাশ্মীর এক্সপ্রেস’ আকিব নবি। গত দুই মরশুমে তাঁর ঝুলিতে ৯০ উইকেট—সংখ্যাটা নিজেই তাঁর প্রভাব বোঝাতে যথেষ্ট। সেটাই প্রমাণ করলেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে হাফসেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে অভিমন্যুকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। এরপর বিনা রানে ফিরে যান সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল। অনুষ্টুপ মজুমদারও আবার ব্যর্থ (১৪)। মুহূর্তে ৩ উইকেট পড়ে গিয়ে বাংলা ফের চাপে।
সেই সময়েই আবার দায়িত্ব তুলে নিলেন সুদীপ। একদিকে উইকেট পড়লেও অন্যদিকে তিনি ছিলেন অবিচল। শট নির্বাচনে পরিপক্বতা, বোলারদের ক্লান্ত করে দেওয়ার মানসিকতা—সব মিলিয়ে এক পরিণত ইনিংস গড়ে তোলেন। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন শাহবাজ আহমেদ। দু’জনে মিলে ম্যাচের মোড় ঘোরান। ১৪৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সুদীপ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর অষ্টম শতরান। ইনিংসের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন বড় ম্যাচে তাঁকেই বাংলার ‘রক্ষাকর্তা’ বলা হচ্ছে।
দিনের শেষ লগ্নে ৪২ রানে শাহবাজ আউট হলেও কাজের কাজটা হয়ে গিয়েছে। বাংলা পৌঁছে গিয়েছে লড়াইয়ের জায়গায়। ২৪৯/৫—স্কোরবোর্ডে সংখ্যা হয়তো বিশাল নয়, কিন্তু ম্যাচের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত মূল্যবান। এখনও সুমন্ত গুপ্ত ও শাকির হাবিব গান্ধীর মতো ব্যাটাররা রয়েছেন। ফলে প্রথম ইনিংসে বড় রান তোলার সম্ভাবনা জিইয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের ভরসা যদি আকিব নবি হন, তবে বাংলার শক্তিও কম নয়। শামি, আকাশ দীপ ও মুকেশ কুমারের মতো পেসাররা রয়েছেন, যারা জাতীয় স্তরেও নিজেদের প্রমাণ করেছেন। এই পেস আক্রমণ যে কোনও ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে সক্ষম।
সব মিলিয়ে রনজি সেমিফাইনাল জমে উঠেছে সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ে। প্রথম দিনের শেষে ম্যাচের রাশ কিছুটা বাংলার হাতে—আর সেই আত্মবিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সুদীপ কুমার ঘরামি। বড় মঞ্চে বড় ইনিংস খেলাই যে প্রকৃত ব্যাটসম্যানের পরিচয়, তা আর একবার প্রমাণ করলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 5 =