অভাবকে হারিয়ে জলের রানি অঞ্জলি ! তিন সোনায় দেশকে চমকে দিল নতুন কোনি 

ছত্তিশগড়ের রায়পুরে অনুষ্ঠিত খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসে ওডিশার ১৫ বছরের কিশোরী অঞ্জলি মুন্ডা সাঁতারের বিশ্বে নতুন অধ্যায় লিখেছেন। ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে প্রথম স্থান দখল করার পর যখন তিনি জল থেকে উঠে ভি সাইন দেখাচ্ছিলেন, তখন তার মুখে ফুটে উঠেছিল জীবনের কষ্ট, অভাব আর লড়াইয়ের ছাপ। তিনটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে তিনটিতেই সোনা জিতে অঞ্জলি প্রমাণ করেছেন যে তার প্রতিভা শুধুমাত্র বয়স বা রাজ্য দিয়ে মাপা যায় না। সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে টক্কর দিয়েও এই কিশোরী প্রমাণ করেছেন, অর্থ কখনোও সাফল্যের মধ্যে বাধা হতে পারে না।
অঞ্জলির জীবন কিন্তু সহজ নয়। ওডিশারের জাজপুরের এই মেয়ে অভাব আর অপুষ্টিতে বড় হয়েছেন। ঠিক যেন মতি নন্দীর ‘কোনি’র গল্পের মতো। ছোটবেলায় ঠিক মতো খাবার না পাওয়া, আর নানা দৈনন্দিন কষ্টের মধ্য দিয়ে তার শৈশব কেটেছে। সেই জীবনে আলো দেখিয়েছেন একজন বঙ্গসন্তান কোচ—দীপঙ্কর দাস।দীপঙ্কর দাস ভুবনেশ্বরে কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্স হাই স্কুলে আদিবাসী কিশোর–কিশোরীদের বিনামূল্যে সাঁতার শেখাচ্ছেন। চার বছরের কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেককে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভা হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি। শুধু শিক্ষা নয়, এই স্কুলে থাকা–খাওয়া, চিকিৎসা এবং খেলাধুলার সুযোগও দেওয়া হয়। অঞ্জলির সাফল্যের পেছনে দীপঙ্কর দাসের নির্দেশনা ও সহায়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অঞ্জলির কথায়, “আমার বাবা পেশায় ভ্যান চালক। করোনার সময় কাজ না থাকায় বাড়িতে প্রায় না খেয়ে থাকতে হয়েছে। তখনই স্থানীয় এক কাকার মাধ্যমে আমাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। এরপর আমার থাকা–খাওয়ার কোনও অভাব নেই।” স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরই দীপঙ্কর স্যর জানতে চেয়েছিলেন, অঞ্জলি কোন খেলা করতে পছন্দ করে। অঞ্জলির উত্তর ছিল, “আমি সাঁতার কাটতে ভালোবাসি।” সেই দিন থেকেই স্যর তাকে নিয়মিত সাঁতার শেখাচ্ছেন। এখন অঞ্জলির স্বপ্ন ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলা। যদিও তার বয়স মাত্র ১৫, তবুও মনোবল, ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রম তাকে এগিয়ে নিচ্ছে। খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসে তার সাফল্য প্রমাণ করেছে যে সঠিক প্রশিক্ষণ এবং সুযোগের সঙ্গে প্রতিভা মিললে সীমাহীন সম্ভাবনা থাকে। অঞ্জলির গল্প শুধু একজন সাতারুর গল্প নয়, এটি একজন আদিবাসী কিশোরীর সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং অদম্য মানসিকতার গল্প। অভাব ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অঞ্জলির আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম তাকে দেশের খেলার জগতের মানচিত্রে জায়গা করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − three =