আমদাবাদের কালো মাটির মন্থর পিচে খেই হারিয়েছে ভারতের ব্যাটিং। সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৭৬ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে চাপ বেড়েছে সূর্যকুমার যাদবদের উপর। সেমিফাইনালে উঠতে হলে বাকি দু’টি ম্যাচই জিততে হবে ভারতকে। সেই সমীকরণের প্রথম ধাপ বৃহস্পতিবার, এম এ চিদম্বরম স্টেডিয়াম-এ জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ। প্রশ্ন একটাই—চেন্নাইয়ের পিচ কি ভারতের ব্যাটিংকে ফের ছন্দে ফেরাতে পারবে?
চিপক স্টেডিয়াম মানেই সাধারণত মন্থর উইকেট, যেখানে স্পিনারদের দাপট দেখা যায়। আইপিএলের ইতিহাসে বহু বার তার প্রমাণ মিলেছে। এই মাঠে পিচ কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর সাফল্য পেয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নেতৃত্বে স্পিন ও ধৈর্যের ক্রিকেটই এখানে জয়ের চাবিকাঠি ছিল। সেই হিসেবে দেখলে মনে হতে পারে, জ়িম্বাবোয়ের সিকন্দর রাজ়া বা ব্লেসিং মুজারাবানিদের জন্য সুবিধাজনক হবে চিপকের উইকেট।
কিন্তু এ বার পরিস্থিতি আলাদা। বিশ্বকাপের আগে চিপক স্টেডিয়ামের পিচ বদলানো হয়েছে। গত ছ’মাসে সেখানে খুব বেশি ম্যাচ না হওয়ায় উইকেট এখন বেশ তরতাজা। পিচ প্রস্তুতকারকের দাবি, এ বার বল ব্যাটে ভালোভাবে আসবে এবং রান করাও তুলনামূলক সহজ হবে। অর্থাৎ, চিপকের চিরাচরিত মন্থর চরিত্র এ বারে অনেকটাই বদলেছে। এই ধরনের পিচ ভারতীয় ব্যাটারদের পছন্দের, যেখানে শট খেলতে দ্বিধা থাকে না এবং টাইমিংয়ের উপর ভরসা করা যায়।
চলতি বিশ্বকাপেই তার প্রমাণ মিলেছে। এই মাঠে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১৭.৫ ওভারে ১৮২ রান তাড়া করে জিতেছে নিউ জ়িল্যান্ড। ওই ম্যাচে আফগানিস্তানের তরুণ স্পিন তারকা নুর আহমেদকে প্রথম একাদশের বাইরে রেখেছিলেন কোচ জোনাথন ট্রট। সিদ্ধান্তটাই বলে দিচ্ছিল, পিচে স্পিনারদের জন্য বিশেষ কিছু নেই। একই মাঠে কানাডার বিরুদ্ধে ১৫.১ ওভারে ১৭৬ রান তাড়া করে ম্যাচ শেষ করেছে কিউইরা। ম্যাচের পর অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার স্পষ্টই বলেছিলেন, চিপকের পিচ ছিল ‘পাটা’।
ভারত-জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচের জন্যও নতুন উইকেট ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে দুই ইনিংসেই রান উঠেছে, বোলারদের জন্য তেমন বাড়তি সাহায্য দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবারও সেই ছবিই দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ, টস জিতলে রান তাড়া করা বা প্রথমে ব্যাট—দুটোই সুবিধাজনক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপে এই প্রথমবার সূর্যকুমার যাদবরা নিজেদের পছন্দের উইকেটে খেলতে নামতে পারেন। আহমদাবাদের মন্থর পিচে যে ব্যাটিং ভেঙে পড়েছিল, চেন্নাইয়ের তরতাজা উইকেটে সেই ভুল শুধরে নেওয়ার বড় সুযোগ ভারতের সামনে। সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে, এই পিচকেই হাতিয়ার করে আত্মবিশ্বাসে ফিরতেই হবে টিম ইন্ডিয়াকে।

