সংকটের মাঝেই এলো স্বস্তির বার্তা

চোট–আঘাত আর ফিটনেস সমস্যায় এই মুহূর্তে বেশ চাপে টিম ইন্ডিয়া। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতেই ভারতীয় শিবিরে একের পর এক দুশ্চিন্তার খবর। হর্ষিত রানা পুরোপুরি ছিটকে গিয়েছেন টুর্নামেন্ট থেকে। প্রথম ম্যাচে অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি জসপ্রীত বুমরাহ। তার উপর শোনা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে অভিষেক শর্মাকে খেলানো হয়েছিল ‘হাফ ফিট’ অবস্থায়। সব মিলিয়ে দল গঠনের প্রশ্নে স্বস্তির বদলে উদ্বেগই যেন বেশি।
এই পরিস্থিতিতে খানিকটা হলেও স্বস্তির খবর এনে দিলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। প্রথম ম্যাচে ভারতের জয়ের পর সূর্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট ওয়াশিংটন সুন্দর। ভারতীয় অফস্পিনার-অলরাউন্ডার দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দিল্লিতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলেই খবর। চোট-সমস্যায় জর্জরিত দলে একজন নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডারের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় স্বস্তি।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচটি অনায়াসে জিতেছে ভারত, তবু সেই ম্যাচে ব্যাটিং বিভাগ নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুলনামূলক ভাবে দুর্বল মার্কিন আক্রমণের বিরুদ্ধে ভারতের মিডল অর্ডার যেভাবে ভেঙে পড়েছিল, তা একেবারেই আশ্বস্ত করেনি। শেডলি ভ্যান শাকউইক নামের এক ‘নিরীহ’ মিডিয়াম পেসারের সামনেই অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করে ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ক্যারিশমাটিক ইনিংসেই ম্যাচটা সহজে জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু সেই সঙ্গে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে যায়, দলের ভারসাম্য রক্ষায় একজন প্রকৃত অলরাউন্ডারের প্রয়োজন কতটা জরুরি।
এই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন ওয়াশিংটন সুন্দর। বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে ট্রেনিং করছেন তিনি। বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাটিং ও বোলিং—দুটোই পুরোদমে শুরু করে দিয়েছেন ওয়াশিংটন। প্রয়োজনীয় সব ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁকে ফিটনেস সার্টিফিকেটও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম ম্যাচের পর অধিনায়ক সূর্য নিজেই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ ফিট এবং শীঘ্রই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচেই কি তাঁকে খেলানো হবে? এই মুহূর্তে প্রথম একাদশে জায়গা করে নেওয়া ওয়াশিংটনের পক্ষে সহজ নয়। টিম ম্যানেজমেন্ট আপাতত কম্বিনেশন ভাঙতে চাইছে না। কিন্তু রিঙ্কু সিং যদি ফের ব্যর্থ হন, তখন ওয়াশিংটনের নাম ভাবা হতে পারে। আবার পিচ যদি স্পিন সহায়ক হয়, সে ক্ষেত্রে শিবম দুবে বা অতিরিক্ত কোনও পেসারকে বসিয়েও ওয়াশিংটনকে খেলানোর রাস্তা খোলা রয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিষয়, ওয়াশিংটন সুন্দর কোচ গৌতম গম্ভীরের আস্থাভাজন ক্রিকেটার। গত ছ’মাস ধরে নিয়মিত টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলছেন তিনি এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দলের প্রয়োজনে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বারবার প্রমাণ করেছেন। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে যে কোনও সময় তিনি প্রথম একাদশে ঢুকে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যদিও আপাতত দ্বিতীয় ম্যাচেই তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 7 =