পুরুষদের হতাশা মুছে এশীয় ফুটবলের মঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখল ইস্টবেঙ্গল। জয়ের জন্য মাঠে নেমে শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে। কিন্তু সেই হারও কেড়ে নিতে পারেনি লাল-হলুদ মেয়েদের স্বপ্ন। উত্তর কোরিয়ার প্রবল শক্তিশালী ৪.২৫ এসসির কাছে ০-২ গোলে পরাস্ত হয়েও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে মেয়েদের এই সাফল্য নজিরবিহীন। প্রথম ভারতীয় দল হিসাবে এশিয়ার সেরা আটে জায়গা করে নিল মশাল গার্লসরা।
শনিবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ম্যাচটা ছিল কার্যত অগ্নিপরীক্ষা। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াচিয়ন কেএসপিও ডব্লুএফসির কাছে ১-৪ গোলে হেরে প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ফলে পরের পর্বে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ৪.২৫ এসসির বিরুদ্ধে জয় অথবা ড্র প্রয়োজন ছিল। তবে হারলেও গোলের ব্যবধান বড় হতে দেওয়া চলবে না। বিশেষ করে চার গোল হজম করা একেবারেই চলত না। কারণ গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলির অন্যতম উত্তর কোরিয়ার এই ক্লাব।
কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই যাবতীয় পরিকল্পনায় ধাক্কা। দ্বিতীয় মিনিটেই গোল হজম করে বসে ইস্টবেঙ্গল। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় লাল-হলুদ রক্ষণ। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ৪.২৫ এসসি। একের পর এক আক্রমণে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান বাড়ায় কোরিয়ার দল। বিরতির সময় স্কোরলাইন ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও গোলের জন্য ঝাঁপায় উত্তর কোরিয়ার দলটি। কিন্তু এবার আর রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি তারা। বরং গোলের ব্যবধান আর বাড়তে না দেওয়ার মরিয়া লড়াই চালিয়ে যান ইস্টবেঙ্গলের মেয়েরা। একের পর এক আক্রমণ সামলে শেষ পর্যন্ত ০-২ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ করেন ফাজিলারা।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, তিনটি গ্রুপের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলগুলির পাশাপাশি তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলির মধ্যে সেরা দু’টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। সেই অঙ্কেই লাভবান ইস্টবেঙ্গল। দুই গোলের ব্যবধানে হারলেও গোলপার্থক্যের সুবাদে শেষ আটের ছাড়পত্র পেয়ে গেল তারা। তাই শনিবারের ফলাফল শুধু পরাজয়ের কাহিনি নয়, ভারতীয় মহিলা ফুটবলের নতুন ইতিহাসও। এবার এশিয়ার মঞ্চে আরও একধাপ এগোনোর স্বপ্ন দেখছে লাল-হলুদ।

