সিপিএমের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে অগ্নিমিত্রার তোপ

কলকাতা : “সিপিএমের রাজনৈতিক ভাষা কি শেষ পর্যন্ত ‘বাপ’ পর্যন্তই এসে ঠেকল?” সামাজিক মাধ্যমে এই প্রশ্ন তুললেন বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

শনিবার তিনি লিখেছেন, “সিপিএমের নিজস্ব ফেসবুক পেজে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা সত্যিই লজ্জাজনক। ‘আগে বাপকে গিয়ে বল’—এটাই কি এখন সিপিএমের রাজনৈতিক প্রতিবাদের নমুনা? কোনও মেঠো বক্তৃতায় উত্তেজনার বশে বলা কথা নয়, রীতিমতো পরিকল্পনা করে লেখা একটি পোস্টে এই শব্দের ব্যবহার! অর্থাৎ, ভেবেচিন্তে এই ভাষাকেই রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিরোধিতা করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে ন্যূনতম ভদ্রতাটুকুও বিসর্জন দিতে হবে কেন? মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করার মতো বিষয় কি সত্যিই ফুরিয়ে গিয়েছে, যে শেষ পর্যন্ত পরিবারকে টেনে আনতে হচ্ছে?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বক্তব্যেও অতীতে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণের নজির দেখা গিয়েছে। সেই ভাষার রাজনীতির সমালোচনা যারা করত, আজ তারাই একই পথে হাঁটছে। তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?

মুখে রাজনৈতিক আদর্শের বুলি, আর কাজে সেই একই কুরুচিকর শব্দচয়ন! সুবিধামতো রাজনৈতিক শালীনতার সংজ্ঞা বদলে ফেলাই কি এখন সিপিএমের নতুন কৌশল?

চিনের কোম্পানি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়েও যে ধরনের তুলনা করা হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট। কোনও ভারতীয় শিল্পপতির চিনে গিয়ে ব্যবসা করা আর ভারতীয় বাজারে চিনা পণ্য কেনা এক বিষয় নয়। এই সামান্য পার্থক্যটুকু না বুঝে অন্যকে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা সত্যিই হাস্যকর।

৩৪ বছর বাংলার ক্ষমতায় থাকা একটি রাজনৈতিক দলের আজ এমন দশা! জনসমর্থন নেই, সংগঠনের শক্তি ক্রমশ কমছে, রাজনৈতিক প্রভাবও তলানিতে। অথচ আত্মসমালোচনার কোনও লক্ষণ নেই। বরং নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণ, কখনও কুরুচিকর শব্দ, কখনও আবার অদ্ভুত সব যুক্তির আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

সিপিএমের কাছে একটা প্রশ্ন, রাজনীতি করবেন, নাকি ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রতিযোগিতায় নামবেন? মানুষ রাজনৈতিক বিকল্প চায়, গালিগালাজের প্রতিযোগিতা নয়।

যে দলের রাজনৈতিক বক্তব্যে যুক্তির চেয়ে অশালীন শব্দের উপস্থিতি বেশি, তাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক শিক্ষা নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। ৩৪ বছরের শাসনের পরে দলটি আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, তাদের নিজেদের ফেসবুক পোস্টই তার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। বিপ্লবের কথা বলতে বলতে শেষ পর্যন্ত ভাষার এই অধঃপতন—সত্যিই এক করুণ রাজনৈতিক পরিণতি!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 19 =