দীপাবলির আগে গোষ্ট পাল সরণির ক্লাবে উৎসবের মেজাজ। আইএসএলে ছুটছে সবুজ-মেরুনের পাল তোলা নৌকা। একের পর এক জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে মোহনবাগান। বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে ওড়িশা এফসিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয়ও তুলে নিল তারা। কিন্তু জয়ের আনন্দের মাঝেও একটা অস্বস্তি থেকেই যাচ্ছে। একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করছেন বাগানের আক্রমণভাগের ফুটবলাররা। ফলে দল জিতলেও গোল মিসের বহর দেখে চিন্তায় কোচ প্যানোস। শেষ চার ম্যাচে চার জয়, অথচ প্রতিপক্ষকে আরও বড় ব্যবধানে হারানোর সুযোগ বারবার হাতছাড়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচেও ছবিটা ছিল একই। শুরু থেকেই ওড়িশার রক্ষণে চাপ তৈরি করে মোহনবাগান। কিন্তু গোলের সামনে গিয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলছিলেন লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিংরা। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই মাত্র দুই গজ দূর থেকে বল বারে মারেন লিস্টন। পরের মিনিটেও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। কখনও অতিরিক্ত কেরামতি দেখাতে গিয়ে, কখনও গোলের সামনে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হতে থাকে। মনবীরও একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে গোল করতে পারেননি। লি এরউইনও সতীর্থদের ভালো জায়গায় পেয়েও নিজেই শট নিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন। প্রথমার্ধে অন্তত তিন গোলে এগিয়ে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেও গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় বাগান।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য গোলের মুখ খুলতে বেশি সময় নেননি দ্রাজিচ। ৪৭ মিনিটে দুরন্ত গোলে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন তিনি। কিন্তু পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মহম্মদ ইদের গোলে সমতা ফেরায় ওড়িশা। ফের গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে বাগান। লিস্টনকে তুলে ছাংতেকে নামান প্যানোস। তাঁর সেই পরিবর্তন কাজে লাগে ৭৪ মিনিটে। ছাংতের বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দ্রাজিচ। কিন্তু সেই আনন্দও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৭৯ মিনিট নাগাদ রক্ষণের ভুলে গোল করে ফের সমতা ফেরায় ওড়িশা। শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে বক্সের ভিতর বল ধরে দুরন্ত ফিনিশে মোহনবাগানকে জেতান এরউইন।
এই জয়ের ফলে এ বারের আইএসএলে চার ম্যাচে চার জয় মোহনবাগানের। অর্থাৎ পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষে রয়েছে তারা। জয়ের হার ১০০ শতাংশ। টানা চার ম্যাচ জিতে ছন্দে থাকলেও দলের খেলার মধ্যে যে বেশ কিছু খামতি রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে আক্রমণভাগের সুযোগ নষ্ট এবং রক্ষণে ভুলের পুনরাবৃত্তি ভাবাচ্ছে কোচকে। কারণ, ওড়িশার মতো দলের বিরুদ্ধে যে ভুলের পরেও জয় পাওয়া যাচ্ছে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সেই সুযোগ মিলবে না। দীপাবলির আগে জয়ের আলোয় মোহনবাগান শিবির উজ্জ্বল হলেও প্যানোসের চিন্তা তাই কাটছে না।

