উত্তরাখণ্ডে মাঝআকাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেঙে পড়ল যাত্রীবাহী হেলিকপ্টার, মৃত পাইলটসহ ৬

জোশীমঠ/দেহরাদুন  : উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ৬ জন আরোহীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বদ্রীনাথ ধাম থেকে সহস্রধারা ফেরার পথে জোশীমঠের কাছে চায়ি গ্রামের সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় যাত্রীবাহী হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। প্রাথমিকভাবে প্রতিকূল ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত হেলিকপ্টারটি ‘ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশন’ নামক সংস্থার এবং এটি ‘চার্লি এক্স’ কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল। শুক্রবার দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে বদ্রীনাথ থেকে ছ’জন আরোহীকে নিয়ে হেলিকপ্টারটি উড্ডয়ন করে। এরপর দুপুর সওয়া ২টো নাগাদ হাথি পর্বতের কাছাকাছি পৌঁছাতেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে সেটির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই চায়ি গ্রামের কাছে পাহাড়ি উপত্যকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়েই দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল এবং নিখোঁজ হেলিকপ্টারটির ধ্বংসস্তূপ শনাক্ত করে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে চামোলি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটিতে পাইলট ছাড়া আরও পাঁচজন যাত্রী উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনায় কারোরই প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি, ৬ জনেরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসন, জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর টিম যৌথভাবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, চায়ি গ্রামের কাছে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনার ওপর তিনি নিজে প্রতি মুহূর্তে কড়া নজর রাখছেন এবং উদ্ধারকাজে যাবতীয় প্রশাসনিক সহায়তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ওই পাহাড়ি অঞ্চলে আগেই তুষারপাত ও খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছিল। এই ধরণের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কীভাবে বদ্রীনাথ থেকে হেলিকপ্টারটির উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + three =