হাতে ছিল ২০৯ রানের লিড। প্রতিপক্ষকে ফলো অন করানোর সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলা। সেই কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে তার যথার্থতা প্রমাণ করে দিলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লর ছেলেরা। ব্যাট ও বলের যুগলবন্দিতে কেরলকে ২৮৭ রানে হারিয়ে রনজি ট্রফিতে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল বঙ্গ ব্রিগেড। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল বাংলা।
ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষে ফলো অন না করানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। তাঁর মতে, প্রবল গরম এবং বাতাসে আর্দ্রতার কারণে বোলারদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছিল। তাই ফের প্রতিপক্ষকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে বোলারদের ক্লান্ত করতে চাননি তাঁরা। পাশাপাশি চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করার ঝুঁকির কথাও মাথায় রেখেছিলেন বাংলার কোচ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল বুঝিয়ে দিল, পরিস্থিতি বিচার করে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়েছিল।
প্রথম ইনিংসে বাংলার বড় রানের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন শাহবাজ আহমেদ, অঙ্কুর পাল এবং সুমন্ত গুপ্ত। শাহবাজের ব্যাট থেকে এসেছিল ২০৩ বলে ১২১ রানের দুরন্ত ইনিংস। অঙ্কুর করেন ৮০ বলে ৬৬ রান। অন্যদিকে, সুমন্তের সংগ্রহ ৯৫ বলে ৪৯। তাঁদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে সাড়ে ৩৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় বাংলা। এই রানই পরবর্তী সময়ে ম্যাচে বাংলাকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলার বোলারদের সামনে বিশেষ প্রতিরোধ গড়তে পারেনি কেরল। দ্বিতীয় দিনের শেষে ছ’টি উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল শচীন বেবির দল। পরের দিন সকালে বাকি চারটি উইকেটও দ্রুত তুলে নেয় বাংলা। কেরলের প্রথম ইনিংস থামে মাত্র ১৪১ রানে। বাংলার হয়ে প্রদীপ্ত প্রামাণিক ৪৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। মহম্মদ শামির ঝুলিতে আসে তিনটি উইকেট। শাহবাজও দু’টি উইকেট তুলে নিয়ে দলের সুবিধা আরও বাড়িয়ে দেন।
এর পর দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত রান তুলে কেরলের সামনে বড় লক্ষ্য রাখতে চেয়েছিল বাংলা। তবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পথে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন। শাহবাজের অবদান ৪০ বলে ২০। অঙ্কুর পাল করেন ১২ এবং সুমন্ত গুপ্তের সংগ্রহ ছয় রান। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হয় বাংলা। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪০৮ রানের কঠিন লক্ষ্য পায় কেরল।
চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে কেরল। তৃতীয় দিনের শেষে মাত্র ৫৩ রানের মধ্যে চারটি উইকেট হারিয়ে কার্যত হারের মুখে চলে গিয়েছিল তারা। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলার প্রয়োজন ছিল বাকি ছ’টি উইকেট। সেই কাজ দ্রুত সেরে ফেলেন বোলাররা। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ৬৭ রান যোগ করতে পেরেই শেষ ছ’টি উইকেট হারায় কেরল। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রদীপ্তের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি প্রতিপক্ষ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রান দিয়ে ছ’টি উইকেট তুলে নেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর উইকেটসংখ্যা ১০। ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্সের সুবাদে বাংলার বড় জয়ে প্রধান ভূমিকা নেন এই বোলার। শামি এবং শাহবাজ দ্বিতীয় ইনিংসে দু’টি করে উইকেট পান।
ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্সে খুশি প্রদীপ্ত। তাঁর কথায়, এক ম্যাচে ১০টি উইকেট নেওয়া অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের থেকেও দলের জয়ে অবদান রাখতে পারাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ম্যাচগুলিতেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাকে জেতানোই লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

