২০ লক্ষ টাকার প্রতারণা চক্রের হদিশ, বড়বাজার ও হাওড়া থেকে গ্রেফতার চার

কলকাতা : উপরে ও নিচে একটি করে আসল ৫০০ টাকার নোট এবং মাঝে ঠিক সেই মাপে কাটা সাদা কাগজ—এই কায়দায় নামী বেসরকারি ব্যাঙ্কের ভুয়ো লেবেল সাঁটিয়ে ২০ লক্ষ টাকার প্রতারণার ছক কষা এক চক্রের সন্ধান পেল পুলিশ। বুধবার রাতে বড়বাজার ও হাওড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট চারজন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে নগদ টাকার বান্ডিল ছাড়াও জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর বড়বাজার থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে, স্ট্র্যান্ড রোড ও মীরবহর ঘাট স্ট্রিটের সংযোগস্থলে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তি জাল টাকার বান্ডিল নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে অবিলম্বে তল্লাশি চালিয়ে বিজয়পাল ওরফে অরবিন্দ (২৩) এবং শিবা থাপা (২৪) নামের দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। এরপর বিজয়পালের ব্যাকপ্যাক বা পিঠের ব্যাগ তল্লাশি করে চারটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বান্ডিলের ওপর একটি করে বেসরকারি ব্যাঙ্কের জাল লেবেল সাঁটানো ছিল, যাতে ‘পাঁচ লক্ষ টাকা’ লেখা রয়েছে। অর্থাৎ, চারটি বান্ডিল মিলিয়ে মোট ২০ লক্ষ টাকা থাকার কথা। কিন্তু পুলিশ বান্ডিলগুলি খুলতেই চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণার আসল রূপ সামনে আসে।

তদন্তকারীরা দেখতে পান, প্রতিটি বান্ডিলের একদম ওপরে ও নিচে একটি করে আসল ৫০০ টাকার নোট রয়েছে এবং মাঝের অংশটিতে ঠিক নোটের মাপে কাটা সাদা কাগজের ৯৯৮টি টুকরো রাখা হয়েছে। চারটি বান্ডিল মিলিয়ে মোট উদ্ধার হয় মাত্র চার হাজার টাকা (৫০০ টাকার মোট আটটি আসল নোট)। আইনি প্রক্রিয়া মেনে পুরো ঘটনার ভিডিয়োগ্রাফি করে বান্ডিলগুলি জব্দ ও সিল করে পুলিশ। এরপর ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

বড়বাজার থানায় গত ২৭ অক্টোবর ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৮(৪), ৩৩৬(৩), ৩৪০(২), ১১২, ৬১(২) এবং ৩(৫) ধারায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা (কেস নম্বর ১৭০/২০২৬) দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়।

ধৃত দুই যুবককে জেরা করে এই চক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজ পায় পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাওড়ায় অভিযান চালিয়ে সুনীল কুমার বর্মা (৪৭) ও গোপাল গুর্জর (২৪) নামের আরও দুই অভিযুক্তকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশি তল্লাশিতে ধৃতদের কাছ থেকে একটি প্রিন্টার, পেপার-রিম কাটার, সাদা বন্ড পেপারের দুটি বাক্স সহ জাল বান্ডিল তৈরির বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − thirteen =