৩৫ বলে সেঞ্চুরি, অভিষেকের ব্যাটে বিশ্বরেকর্ডের ঝড়! নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ পকেটে ভারতের

ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাত্র ৩৫ বলে শতরান করে একাধিক নজির গড়লেন ভারতের বাঁহাতি ওপেনার। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করলেন বৈভব সূর্যবংশীও। দুই তরুণের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে কার্যত একপেশে হয়ে গেল ম্যাচ। ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪০ বল বাকি থাকতেই ছয় উইকেটে জয় তুলে নিল ভারত। সেই সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পরপর তিনটি ম্যাচ জিতে সিরিজও নিজেদের পকেটে পুরে নিল টিম ইন্ডিয়া।

অভিষেকের এই ইনিংস শুধু ভারতকে জয় এনে দেয়নি, ব্যক্তিগত রেকর্ডের তালিকাতেও তাঁকে আরও এগিয়ে দিয়েছে। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর ৩৫ বলেই তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান তিনি। এর আগে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করার নজিরও রয়েছে তাঁর। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম শতরানের দৌড়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ বারবার দিয়েছেন এই ভারতীয় ব্যাটার। চারটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করে ভারতীয়দের মধ্যে সূর্যকুমার যাদবের নজির স্পর্শ করেছেন অভিষেক। এই তালিকায় তাঁর সামনে রয়েছেন শুধু রোহিত শর্মা। পাশাপাশি, ১৯৬-এর স্ট্রাইক রেটে চারটি শতরান করার নজিরও তাঁকে বিশ্ব ক্রিকেটের বিশেষ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স আইয়ার। ভারতীয় দলে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। তবে বল হাতে ফের হতাশ করেন ভুবনেশ্বর কুমার। চার ওভার বল করে ৪০ রান দিলেও কোনও উইকেট পাননি তিনি। ফলে পরের ম্যাচগুলিতে তাঁর সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের হয়ে ব্যাট হাতে লড়াই করেন ফিন অ্যালেন ও ড্যারিল মিচেল। ২৫ বলে ৪০ রান করেন অ্যালেন। মিচেলের ব্যাট থেকে আসে ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। তাঁর ব্যাটিংয়ের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯৮ রান তোলে কিউয়িরা। ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৯৯ রান। কিন্তু সেই রান তুলতে যে এত কম সময় লাগবে, তা সম্ভবত ভাবতে পারেননি নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও।

রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ভারতীয় ওপেনারদের। এদিন বৈভব সূর্যবংশীকে ওপেন করতে পাঠানো হয়। সেই সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর, তা দ্রুত বুঝিয়ে দেন তরুণ ব্যাটার। অভিষেকের সঙ্গে জুটি বেঁধে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রান করেন বৈভব। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও চারটি ছক্কা। দুই ওপেনারের দাপটে মাত্র পাঁচ ওভারেই ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় ভারত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এত কম সময়ে দলগত শতরানের নজির আগে দেখা যায়নি।

তবে দিনের সমস্ত আলো নিজের দিকে টেনে নেন অভিষেক। তাঁর ইনিংসে ছিল ন’টি চার ও ১১টি ছক্কা। বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো এই ইনিংসে শুরু থেকেই বোলারদের কোনও সুযোগ দেননি তিনি। ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করার পর তাঁর ব্যাটিংয়ের গতি আরও বাড়তে থাকে। একসময় মনে হচ্ছিল, মাত্র ৩০ বলেই দ্বিতীয়বারের জন্য টি-টোয়েন্টি শতরান করে ফেলবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩৫ বল লাগে তিন অঙ্কে পৌঁছতে। ৩৮ বলে ১১৩ রান করে আউট হন অভিষেক।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০ বলের কমে তিনবার শতরান করার নজির রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট তিন ক্ষেত্রেই শতরান করে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছেন এই বাঁহাতি। পাশাপাশি, এক ইনিংসে ১০টির বেশি ছক্কা হাঁকানোর কীর্তিও এদিন নিয়ে গেলেন আরও এক ধাপ এগিয়ে। এই নিয়ে তিনবার এমন ইনিংস খেললেন তিনি।

অভিষেক ও বৈভবের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় পাওয়ারপ্লের মধ্যেই। বাকি কাজ শেষ করেন ভারতীয় ব্যাটাররা। ছয় উইকেটে জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিরিজও জিতে নেয় ভারত। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এই দাপুটে পারফরম্যান্স আগামী ম্যাচগুলির আগে ভারতীয় শিবিরকে আরও আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − one =