শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত গোলের অপেক্ষা। একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে বাড়ছিল উদ্বেগ, গ্যালারিতে জমছিল অস্বস্তি। ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে উঠলেন মনবীর সিং। লিস্টন কোলাসোর নিখুঁত ক্রস, বুক দিয়ে বলের দিক বদলে জালে পাঠালেন মনবীর। ৮৫ মিনিটের সেই গোলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। মরশুমে প্রথমবার ঘরের মাঠে নেমে চেন্নাইয়িন এফসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট তুলে নিল মোহনবাগান।
এ বারের আইএসএলে প্রথম ঘরের ম্যাচে জয় পেতে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হল সবুজ-মেরুনকে। গুয়াহাটিতে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে মরশুমের প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল দিলেমপেরিসের দল। তার পর দিল্লিতে স্পোর্টিং দিল্লিকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই কলকাতায় ফিরেছিলেন বিশাল কাইথ, শুভাশিস বসুদের সতীর্থরা। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই ছিল লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত জয় এল ঠিকই, তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হল ম্যাচের অন্তিম পর্যায় পর্যন্ত।
শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল মোহনবাগান। কিন্তু আক্রমণের শেষ পাস কিংবা গোলের সামনে নিখুঁত ফিনিশিং— কোনওটাই প্রথমার্ধে প্রত্যাশামতো দেখা গেল না। উল্টে সুযোগ তৈরি করে চেন্নাইয়িনও বুঝিয়ে দেয়, তারা শুধু রক্ষণ সামলাতে আসেনি। প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ সামলাতে হয় কাইথকে। তবে সবুজ-মেরুন গোলরক্ষক ছিলেন নির্ভরযোগ্য। তাঁর দৃঢ়তায় গোল হজম করতে হয়নি মোহনবাগানকে।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর বিরতির পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ানোর চেষ্টা করে কলকাতার দল। কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্ট হতে থাকে। ৬৫ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে গোলের সামনে মোহনবাগানের ব্যর্থতা ফুটে ওঠে আরও স্পষ্টভাবে। যত সময় গড়ায়, ততই বাড়ে ফুটবলারদের হতাশা। অন্য দিকে ম্যাচের শেষদিকে পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল চেন্নাইয়িনও।
তবে ৮৫ মিনিটে বদলে যায় ম্যাচের ছবি। বাঁ দিক থেকে লিস্টনের মাপা ক্রস এসে পৌঁছয় মনবীরের কাছে। বুক দিয়ে বল জালে ঠেলে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আর সমতা ফেরাতে পারেনি চেন্নাইয়িন। মরশুমের প্রথম জয়ের খোঁজে নামা অতিথিদের ফিরতে হল খালি হাতে।
মোহনবাগানের কাছে এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও সুযোগ। তবে আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা চিন্তা বাড়াবে বাগান কোচের। শেষ মুহূর্তের গোল স্বস্তি দিলেও, পরের ম্যাচগুলিতে আরও ধারাল ফুটবল খেলতে হবে সবুজ-মেরুনকে।

