প্রতিবাদের অনুমতি নাকচ, আইন ভাঙলে ব্যবস্থা: দিল্লি পুলিশ

নয়াদিল্লি : মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়বদ্ধতার দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত প্রতিবাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার নূপুর প্রসাদ। শুক্রবার তিনি জানান, ককরোচ জনতা পার্টির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদের বিষয়ে আবেদন জমা পড়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের অনেক কম আগে আবেদন জমা দেওয়া, পূর্ববর্তী প্রতিবাদে আইনসম্মত নির্দেশ ও নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি না মানা, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলি বিবেচনা করে অনুমতি নাকচ করা হয়েছে।

নূপুর প্রসাদ জানান, ৭ অক্টোবর নয়াদিল্লি জেলার কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ অক্টোবর প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়বদ্ধতার প্রশ্নে এই প্রতিবাদের আয়োজন করার কথা জানানো হয়েছিল। আবেদনটি খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানাতে হয়। এক্ষেত্রে এত অল্প সময় আগে জানানো হয়েছিল যে নির্ধারিত সময়সীমা মানা হয়নি।

তিনি আরও জানান, অতীতে ককরোচ জনতা পার্টিকে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে তারা আইনসম্মত নির্দেশ মেনে চলেনি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অন্য সংগঠনগুলির তরফে প্রকাশ্যে কর্মসূচির ডাক এবং জননিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এবার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জয়েন্ট কমিশনার বলেন, নয়াদিল্লি এলাকায় বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই ধারার অধীনে প্রতিরোধমূলক বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। ফলে ওই এলাকায় কোনও ধরনের জমায়েত বা প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করে কেউ জমায়েত করলে, অথবা ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির মতো ঘটনা ঘটলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবাদের অনুমতি দেওয়ার নীতি ব্যাখ্যা করে নূপুর প্রসাদ বলেন, পুলিশ কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ক্ষেত্রেই অনুমতি দেয়। প্রতিবাদ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সহযোগিতা করে। কিন্তু পুলিশের উপর হামলা হলে শান্তি বিঘ্নিত হয়। পুলিশকর্মীরাও সমাজেরই অংশ এবং প্রত্যেকের প্রতি সম্মান দেখানো সকলের দায়িত্ব। কোনও কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হলে এবং আয়োজকেরা আইন মেনে এগোলে পুলিশ সেই প্রতিবাদে সহযোগিতা করে।

যন্তর মন্তরে অতীতে শত শত প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আয়োজকদের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, আইন মেনে চলা জরুরি। প্রতিবাদ করার অধিকার কোনও একজন ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনও গোষ্ঠীর একচেটিয়া নয়; এই অধিকার সকলের। তাই সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও আইন ও নির্ধারিত বিধি মেনে চলতে হবে।

বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ মানুষকে আটকে দিচ্ছে এবং মাইকে ঘোষণা করছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে প্রসঙ্গেও ব্যাখ্যা দেন জয়েন্ট কমিশনার। তিনি জানান, নয়াদিল্লি এলাকায় বিএনএসএসের ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় সেই বিধানের অধীনেই ঘোষণাগুলি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই ঘোষণাগুলি সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং নির্ধারিত আইনি পদ্ধতি মেনেই করা হচ্ছে।

নূপুর প্রসাদ আরও স্পষ্ট করেন, ১৬৩ ধারার বিধান কেউ লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করা হবে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + 8 =