কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ম্যাচে লড়াই করেও বড় ব্যবধানে হারল ভারত। সিনিয়র পুরুষ ফুটবলে প্রথম বার ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে খালিদ জামিলের দল ০-৪ গোলে পরাজিত হয়েছে। ম্যাচে ভারত বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে মনবীর সিং এবং রায়ান উইলিয়ামসের সামনে গোল করার সুযোগ এলেও তা কাজে লাগেনি। অন্য দিকে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ব্রাজিল চারটি গোল তুলে নেয়।
শুরু থেকেই অবশ্য ব্রাজিল আক্রমণে চাপ তৈরি করেছিল। ১ মিনিটেই বাঁ দিক থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের নিচু ক্রস বিপজ্জনক ভাবে ভারতের বক্সে ঢুকে পড়ে। থাপা দ্রুত পিছিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করেন। ৮ মিনিটে আবার ভিনিসিয়াস আবিশেককে কাটিয়ে শট নেন। গুরপ্রীত সিং সান্ধু দুর্দান্ত সেভ করে বল কর্নারের জন্য পাঠান। সেই কর্নার থেকেই মারকিনিয়োস হেড করার সুযোগ পেলেও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
ভারতও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করেছিল। ৫ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আশিকের সামনে ভালো সুযোগ এলেও তাঁর ক্রস ঠিকঠাক হয়নি। ১৩ মিনিটে মনবীর বল নিয়ে বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেন। ১৫ মিনিটে বিজয়ের বাড়ানো লম্বা বল ধরে মনবীর গোলের সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু মারকিনিয়োস শেষ মুহূর্তে পিছন থেকে এসে বল কেড়ে নেন। ১৭ মিনিটে মনবীর দূর থেকে শট নিলেও সেটি গোলের বাইরে চলে যায়।
২৮ মিনিটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ডান দিক থেকে বল নিয়ে বক্সের সামনে পৌঁছে বাঁ পায়ে জোরাল শট নেন এস্তেভাও। গুরপ্রীত বলের কাছে পৌঁছলেও তাঁর হাতে লেগে বলের গতি বদলে যায় এবং সেটি জালে জড়িয়ে যায়। ১-০ পিছিয়ে পড়ে ভারত। ৩৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারত। ডান দিকের ক্রস থেকে পেদ্রোর হেড সরাসরি ভারতের ডান পোস্টে লাগে। ৪২ মিনিটে অবশ্য দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল। এস্তেভাওয়ের বাড়ানো দুর্দান্ত পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন পেদ্রো। তাঁর শট গুরপ্রীতের ডান হাতে লেগে জালে ঢুকে যায়।
বিরতির পর গুরপ্রীতের বদলে গোলের নিচে নামেন প্রভসুখন গিল। ভারত তখন আক্রমণে কিছুটা বেশি সক্রিয় হয়। ৫৩ মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শট নেন উইলিয়ামস। কিন্তু ব্রাজিলের গোলরক্ষক তা ধরে ফেলেন। ৫৫ মিনিটে মনবীরের সামনে আরও বড় সুযোগ আসে। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে তিনি শট নিলেও ব্রাজিলের গোলরক্ষক সেটি ঠেকিয়ে দেন। ৬৪ মিনিটে উইলিয়ামস প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করার মতো শট নিলেও মাউরো সামনে এসে বল আটকে দেন।
এর পরেও গোলের সুযোগ পায় ভারত। ৬৭ মিনিটে উইলিয়ামসের সঙ্গে মনবীরের দারুণ বোঝাপড়ায় আবার সুযোগ তৈরি হয়। মনবীরের বাড়ানো বল থেকে উইলিয়ামস প্রথম স্পর্শে শট নেন। কিন্তু বল ডান পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই গোলমিসই যেন ম্যাচে ভারতের শেষ বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।
৫৮ মিনিটেই অবশ্য ব্রাজিল তৃতীয় গোল করে ফেলেছিল। ভারত পিছন থেকে বল নিয়ে আক্রমণ তৈরি করতে গিয়ে ভুল করে। বিজয়ের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে স্যামুয়েল লিনো এগিয়ে যান। এরপর সময় নিয়ে বাঁকানো শটে প্রভসুখনকে পরাস্ত করেন তিনি। ৮৪ মিনিটে এন্দ্রিকও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর শট বাইরে চলে গেলেও অফসাইডের পতাকা উঠেছিল। ৯১ মিনিটে ভান্দেরসনের জোরালো শট প্রভসুখন ভালো সেভ করে আটকান।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ফের গোল করেন লিনো। বাঁ দিক দিয়ে একাধিক ভারতীয় খেলোয়াড়কে এড়িয়ে বক্সে ঢুকে পড়ে জোরালো শট নেন তিনি। প্রভসুখনের নাগালের বাইরে দিয়ে বল জালে চলে যায়। লিনোর দ্বিতীয় গোলেই ৪-০ হয় ম্যাচের ফল। এস্তেভাও, পেদ্রো ও লিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল। আর একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের মুখ খুলতে না পারার খেসারত দিতে হয় ভারতকে।

