কলকাতা : নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সনদ দে-কে শনিবার সকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নৈহাটি থানায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর সংঘটিত হিংসার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। শনিবারই তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করবে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা ও মারধরের একাধিক মামলায় সনদ দে-র নাম রয়েছে। এছাড়া এলাকায় তাঁর নির্দেশে তোলাবাজি চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। নৈহাটিতে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। এসব মামলার তদন্তের গতিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
কয়েকদিন আগে পুলিশ সনদ দে-র বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল। তবে সে সময় তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। শনিবার ভোরে তদন্তকারীরা গোপন সূত্রে খবর পান যে তিনি দত্তপুকুর এলাকায় অবস্থান করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারির পর সনদ দে-কে নৈহাটি থানায় নিয়ে আসা হয়। তিনি থানায় পৌঁছাতেই খবর পেয়ে বিজেপির বহু কর্মী-সমর্থক সেখানে উপস্থিত হন এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা সনদ দে-র বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি কিষাণ মোর্চার সহ-সভাপতি দেবার্ক ঘোষ নৈহাটি থানার বাইরে অভিযোগ করে বলেন, সনদ দে-র কার্যকালে এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়েছিল এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার একাধিক ঘটনা ঘটেছিল। তিনি দাবি করেন, বহু বিজেপি কর্মীকে ঘরছাড়াও হতে হয়েছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
পুলিশ বর্তমানে ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে।

