শিক্ষণীর ‘উদ্ভাস – সিজন ১’ -এ মেধার লড়াই, সেরার শিরোপা বাদুড়িয়া এল.এম.এস. হাই স্কুলের

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মেধাকে প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই শিক্ষণী আয়োজন করল আন্তঃবিদ্যালয় কুইজ চ্যাম্পিয়নশিপ ‘উদ্ভাস – সিজন ১’। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার ২১টি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অনুমোদিত বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে এই আয়োজন হয়ে উঠেছিল জ্ঞান, যুক্তি, আত্মবিশ্বাস ও সুস্থ প্রতিযোগিতার এক অনন্য উৎসব।

শিক্ষণীর প্রতিষ্ঠাতা দীক্ষিতা পারেখ সেঠিয়ার বিশ্বাস, বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও সম্ভাবনা কোনো অংশেই কম নয়; প্রয়োজন শুধু এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে তারা নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরতে পারবে এবং প্রাপ্য স্বীকৃতি অর্জন করবে। সেই বিশ্বাস থেকেই জন্ম ‘উদ্ভাস’-এর। শিক্ষণী শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষায় নয়, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, যুক্তিবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেও নিরন্তর কাজ করে চলেছে। ‘উদ্ভাস’ সেই দীর্ঘমেয়াদি ভাবনারই বাস্তব প্রতিফলন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, কুইজ উইজার্ড, একাডেমিক ইনফ্লুয়েন্সার ও জনপ্রিয় বক্তা প্রফেসর অদ্বিতীয়া দত্ত বণিকের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপ ছিল রুদ্ধশ্বাস। প্রতিটি রাউন্ডের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে উত্তেজনা, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিযোগিতার তীব্রতা।

হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতার শেষে চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে বাদুড়িয়া এল.এম.এস. হাই স্কুলের মাথায়। দিব্যতনু মণ্ডল ও মহম্মদ হাসিব মণ্ডলের অনবদ্য পারফরম্যান্সে এই সাফল্য আসে। প্রথম রানার্স-আপ হয় পোলেরহাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (সৃজন ঘোষ ও ওয়াফিকা সুলতানা) এবং দ্বিতীয় রানার্স-আপের সম্মান অর্জন করে মসলন্দপুর ভূদেব স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয় (অনুজা দাস ও স্নিগ্ধা দাস)। সেরা দশে স্থান করে নেয় কমলা গার্লস স্কুল, হাবরা কামিনী কুমার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ ছাত্রা হাই স্কুল, কল্যাণগড় বিদ্যামন্দির, চাঁদপাড়া বাণী বিদ্যাবীথি, বিড়া বল্লভপাড়া শান্তিপিপাসা বল্লভ বালিকা বিদ্যালয় এবং চাঁদপুর হাই স্কুল।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষণীর প্রতিষ্ঠাতা দীক্ষিতা পারেখ সেঠিয়া বলেন, “উদ্ভাস – সিজন ১ শুধুমাত্র একটি কুইজ প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনাকে নতুন আলোয় তুলে ধরার এক আন্তরিক উদ্যোগ। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের আরও বেশি জেলায় এই উদ্যোগকে পৌঁছে দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এমন একটি মঞ্চ তৈরি করাই শিক্ষণীর লক্ষ্য।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + thirteen =