‘আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর জয়, হুলিয়ান আলভারেজের অবিশ্বাস্য গোল, লিওনেল মেসির বিশ্বকাপে ১দশম অ্যাসিস্ট এবং ব্রিল এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ড— সবকিছুর মাঝেই আলোচনায় উঠে এসেছে মেসি ও পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরোর কথোপকথন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ঘটনাও তৈরি করেছে আলাদা কৌতূহল।
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৪৩ মিনিটে। সুইজারল্যান্ড ফ্রি-কিক পাওয়ার ঠিক আগে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দেওয়ালে দাঁড়িয়েছিলেন মেসি। রেফারি জোয়াও পিনেইরো তাঁকে নির্দিষ্ট দূরত্বে সরে যেতে বলেন। কিন্তু রেফারির কথা বলার ধরন ও অঙ্গভঙ্গিতে অসন্তুষ্ট হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, তখনই মেসি রেফারিকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন।’
তবে উত্তেজনার সেই মুহূর্ত সেখানেই শেষ হয়নি। ফ্রি-কিক নেওয়ার পর ক্যামেরায় দেখা যায়, মেসি আবার রেফারির কাছে গিয়ে নিজের আপত্তির কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমাকে অসম্মান করবেন না। আমি আপনার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলেছি, আপনিও আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন।’ সাধারণত শান্ত স্বভাবের মেসির এমন প্রতিবাদ মাঠে বিরল বলেই ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে।
এই ম্যাচে জোয়াও পিনেইরো আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে আসেন ৭২ মিনিটে। সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে ডাইভ দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন তিনি। প্রথমে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলান পিনেইরো। দেখা যায়, পারেদেস ফাউল করেননি, বরং এমবোলো নিজেই ডাইভ দিয়েছিলেন।
৩৮ বছর বয়সি জোয়াও পিনেইরো পর্তুগালের অন্যতম সম্ভাবনাময় রেফারি। ২০১৫ সালে পর্তুগালের শীর্ষ লিগে অভিষেকের পর ২০১৬ সালেই তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির স্বীকৃতি পান। এরপর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা সুপার কাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপের রেফারি প্যানেলেও জায়গা করে নেন তিনি।
মেসির প্রতিবাদ, পিনেইরোর সিদ্ধান্ত এবং এমবোলোর লাল কার্ড—সব মিলিয়ে সুইজারল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারির ভূমিকাই হয়ে উঠেছে আলোচনার অন্যতম বিষয়।

