বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

শেষ ৩২–এ ডিআর কঙ্গো ম্যাচের পর এবার কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষেও একই গল্প। মায়ামিতে আজ বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত নরওয়েকে ২–১ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। এই জয়ে চতুর্থবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছে ১৯৬৬–এর চ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ডের জয়ে দুটি গোলই করেছেন জুড বেলিংহাম। ম্যাচের শুরু থেকে বল ইংল্যান্ডের দখলে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি টমাস টুখেলের দল। বরং ৩৬ মিনিটে উল্টো পিছিয়ে পড়ে দলটি।
নিজেদের অর্ধে হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ সাজান মার্টিন ওডেগার্ড। তাঁর পাস থেকে বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের শট পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।
৪০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করারও সুযোগ ছিল নরওয়ের। ফাঁকায় থাকা আর্লিং হলান্ডকে বল না বাড়িয়ে একা খেলতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন আলেক্সান্দার সরলথ।
আর সেই ব্যর্থতার ‘শাস্তি’ই নরওয়েকে পেতে হয় বিরতির ঠিক আগে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গর্ডনের বাড়ানো বলে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বেলিংহাম। ম্যাচে আসে সমতা। কিছুক্ষণ পর কেইন বল জালে পাঠালেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
তবে প্রথমার্ধের শেষের দিকের গতি দ্বিতীয়ার্ধে ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। এ সময়ে নরওয়ের আক্রমণের ধার বাড়ে। ৫৫ মিনিটে কর্নার থেকে টোরবিয়র্ন হেগেম বল জালেও পাঠান। কিন্তু ভিএআরে দেখা যায়, কর্নারের আগে হলান্ড এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেছিলেন। ফলে গোল বাতিল হয়।
৭৬ মিনিটে কর্নার থেকে ক্রিস্টোফার আয়েরের হেড ক্রসবারে লাগে। ফিরতি বলে হলান্ডও শট জালে জড়াতে পারেননি। ৮৫ মিনিটে আন্তোনিও নুসার নিচু শট প্রতিহত হয় ইংল্যান্ড গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ডের হাতে।
বিপরীতে দ্বিতীয়ার্ধে কোনো অন–টার্গেট শটই নিতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৮৭ মিনিটে বুকায়ো সাকার ক্রস থেকে কেইন ও এবেরেচি এজে বল জালে পাঠানোর সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত আধা ঘণ্টার খেলায়।
আর সেখানেই নায়ক হয়ে ওঠেন বেলিংহাম। ৯২ মিনিটে কেইনের হেড দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন নরওয়ে গোলকিপার নিলান্ড। তবে পরের মিনিটে মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি তিনি। কাছাকাছি থাকা বেলিংহাম দ্রুত ছুটে গিয়ে সহজ টোকায় বল পাঠিয়ে দেন জালে। ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ২–১ গোলে।
তবে নাটকীয়তা এরপরও বাকি ছিল। ৯৯ মিনিটে স্পেন্সকে বক্সে ফেলে দেওয়ায় ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে ভিএআরে দেখা যায়, স্পেন্সই ডিফেন্ডারকে আগে টাচ করেছেন। সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি বাতিল করেন রেফারি।
এই সিদ্ধান্তে অবশ্য বিবিসি লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় অ্যালান শিয়ারার ও পল রবিনসনকে। ইংল্যান্ডের সাবেক এই ফুটবলাররা পেনাল্টি বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন।
একই সময়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল নরওয়ে। যেকোনো সময় সমতা চলে আসার আবহ ম্যাচে। ১০৯ মিনিটে প্যাটট্রিক বার্গের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য ওপর দিয়ে না গেলে সমতা চলেও আসতে পারত। পরের মিনিটে অবশ্য স্পেন্স ও সাকার টানা দুটি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে নরওয়েকে ম্যাচে রাখেন নিলান্ড।
শেষ পর্যন্ত আর সমতা ফেরাতে পারেনি নরওয়ে। গোল না পাওয়া হলান্ডকে ১০৫ মিনিটের সময় তুলে নেন কোচ। প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৬৩৬ দিন পর প্রথমবার গোলশূন্য থাকেন ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা এই স্ট্রাইকার। বিপরীতে বেলিংহামের জোড়া গোলে আরেকটি প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
নরওয়ের আগে শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর বেলিংহামই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি টানা দুটি নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × five =