News Update : তারাতলা ধসে মৃত ৯, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর; ৫ গ্রেপ্তার,আঙুল ববির দিকেও

কলকাতা : তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ২০ জনের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চার জন গুরুতর এবং এক জন আশঙ্কাজনক বলে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহত প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার ৩০ মিনিটের মধ্যেই কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে সিভিল ডিফেন্স, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী যোগ দেওয়ায় উদ্ধার অভিযানে গতি আসে। এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে কয়েক জন আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি সরকারকে জানিয়েছে।

ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, আয়রন স্ট্রাকচার ফ্যাব্রিকেটর কমল সামন্ত, জমির লিজধারী শম্ভুনাথ বেহেরা, শ্রমিক সরবরাহকারী তথা প্রধান ঠিকাদার দিবাকর ভাণ্ডারী এবং কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের মধ্যস্থতাকারী বলে অভিযোগ ওঠা আব্দুল হামিদ। আরও কয়েক জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বিধানসভায় নকশা দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নির্মাণ পরিকল্পনাতেই গুরুতর ত্রুটি ছিল। তাঁর অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার তৎকালীন প্রশাসনের আমলে অনুমোদিত ওই নকশায় একাধিক প্রযুক্তিগত গলদ থাকা সত্ত্বেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে তিন পুর আধিকারিক তাঁদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

এই ঘটনার জেরে আগামী চার সপ্তাহের জন্য কলকাতা পুর এলাকা ছাড়াও রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, সোনারপুর, বারুইপুর, বিষ্ণুপুর-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত নির্মীয়মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে সমস্ত অনুমোদিত নকশা এবং নির্মীয়মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা অডিট করা হবে।

এই অডিটের জন্য অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পান্ডের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে থাকছেন প্রশাসন, পুলিশ, দমকল, পিডব্লিউডি, শ্রম দফতর, কলকাতা পুরসভা, রাইটস, ইরকন এবং আইআইটি খড়্গপুরের প্রতিনিধিরা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অডিটে ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত কোনও নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে দেওয়া হবে না।

উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স, দমকল, কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর ফলেই বহু শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার জন্য তৎকালীন পুর প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি মামলা নয়, প্রয়োজনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেও ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। তাঁর কথায়, “জনগণের জীবন নিয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না। এই ঘটনায় সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − ten =