শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে চেকিয়ার বিরুদ্ধে ড্র দক্ষিণ আফ্রিকার

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে চেকিয়ার প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত লড়াই করে কামব্যাক করল দক্ষিণ আফ্রিকা। খেলার একদম শেষ মুহূর্তে, ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক সাত মিনিট আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে ১-১ ব্যবধানে ড্র করল তারা। এই ড্রয়ের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে দ্রুত ছিটকে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচল প্রোটিয়ারা। পাবেল সুলচের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সফল স্পট-কিক নেন তেবোহো মকোয়েনা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য অন্যরকম ছিল। ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় চেক দল। ডান প্রান্ত থেকে অ্যাডাম হ্লোজেকের ক্রস দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আলেকজানডার সোজকা বল বাড়িয়ে দেন মিশাল সাদিলকের দিকে। ঠাণ্ডা মাথায় বল দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনউয়েন উইলিয়ামসের গা ঘেঁষে জালে জড়িয়ে দেন সাদিলক। খেলার প্রথম মিনিটেই চেকিয়ার তারকা ফরোয়ার্ড প্যাট্রিক শিক গোল করার একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন, তাঁর নেওয়া হেডারটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ানোর আরও কিছু সুযোগ পেয়েছিল চেক দল, কিন্তু ভ্লাদিমির দারিদা ও লুকাস কার্ভের শট গোলের রূপ নিতে পারেনি। অন্যদিকে উইলিয়ামস দারুণ কিছু সেভ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
এনএফএল-এর আটলান্টা ফ্যালকনসের এই আধুনিক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে প্রচুর আসন খালি থাকলেও, উপস্থিত দর্শকরা দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষেই চিৎকার করছিলেন। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে থাপেলো মাসেকের একটি শট চেক ডিফেন্ডার পাভেল সুলচের হাতে লাগলে রেফারি টোরি পেনসো পেনাল্টির বাঁশি বাজান। রেফারি টোরি পেনসো সহ এই ম্যাচের দায়িত্বে ছিল একটি সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত অফিসিয়াল দল। স্পট-কিক থেকে মকোয়েনা গোল করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমতায় ফেরান, যা বিগত ১৬ বছরে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গোল।
প্রথম ম্যাচে পরাজিত হওয়ার পর এই ড্রয়ের ফলে উভয় দলই একটি করে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেল। তারা বর্তমানে গ্রুপ ‘এ’-এর যৌথ শীর্ষস্থানে থাকা মেক্সিকো এবং দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।
পরবর্তী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার। অন্যদিকে চেকিয়াকে মেক্সিকোর এস্তাদিও আসতেকাতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস তাঁর দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়াকে হারানো কঠিন হবে, তবে আমরা যদি এই একই মানসিকতা নিয়ে খেলি, নকআউট পর্বে যাওয়া সম্ভব।” চেকিয়ার কোচ মিরোস্লাভ কাউবেকও তাঁর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ছেলেরা মাঠে তাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × five =