চণ্ডীগড় : পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ঘিরে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একদিকে অকাল তখ্ৎ সাহিবের জাঠেদার ফরেনসিক পরীক্ষার ভিত্তিতে ভিডিওটিকে সত্য বলে দাবি করেছেন, অন্যদিকে পঞ্জাব সরকারের পাল্টা দাবি, ওই ভিডিওতে ভগবন্ত মান নেই। বৃহস্পতিবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হরপাল চিমা দুটি স্বীকৃত পরীক্ষাগারের রিপোর্ট প্রকাশ করে বলেন, ভিডিওটি ভুয়ো এবং মুখ্যমন্ত্রীকে বদনাম করার উদ্দেশ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে।
বিতর্কিত ভাইরাল ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের মতো দেখতে এক ব্যক্তি শিখ গুরুদের প্রতিকৃতির সামনে মদ্যপান করছেন এবং সেই মদ গুরুদের প্রতিকৃতিতে ছিটিয়ে দিচ্ছেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে অকাল তখ্ৎ। তদন্তের ভিত্তিতে ভিডিওটিকে সত্য বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘গুরুদোষী’ এবং ‘পন্থবিরোধী’ বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের আগামী ২৯ জুন অকাল তখ্ৎ সাহিবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়। দলের মুখপাত্র বলতেজ পান্নু জানান, ভারত সরকারের স্বীকৃত দুটি স্বাধীন পরীক্ষাগারে ভিডিওটির ফরেনসিক বিশ্লেষণ করানো হয়েছে। তাঁর দাবি, মোট ১,১৯১টি পৃথক অ্যাঙ্গেল থেকে ভিডিওটি পরীক্ষা করা হয়েছে। মুখের গঠন, শারীরিক গড়ন, উচ্চতা, হাঁটার ভঙ্গি-সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে।
পান্নুর দাবি, দুই পরীক্ষাগারের রিপোর্টেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান নন। বরং একজন অভিনেতাকে ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
তিনি জানান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আম আদমি পার্টির একটি প্রতিনিধি দল পঞ্জাব পুলিশের ডিজিপির সঙ্গে দেখা করবে। গোটা ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, সেই ষড়যন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হবে। প্রয়োজনে দেশের বাইরে বসে কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাঁদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হবে।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হরপাল চিমা সরাসরি শিরোমণি আকালি দল এবং সুখবীর সিং বাদলকে নিশানা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এই ভুয়ো ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আকালি দল এবং সুখবীর বাদলের নেতৃত্বে বিরোধীরা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দিয়ে রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
চিমার কথায়, এই ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে মানুষের সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে কীভাবে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের অপপ্রচার করে পঞ্জাবের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে অকাল তখ্ৎ সাহিবের তলবের পর গোটা ঘটনাকে ঘিরে পঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী ২৯ জুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা অকাল তখ্ৎের সামনে হাজির হন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

